বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
সারাদেশ

চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শ্রম দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান।

নিজস্ব প্রতিবেদক। ২৭ জানু ২০২৬ ০৬:১৫ পি.এম

শ্রীমঙ্গল শ্রীমঙ্গলের সময়

 

 ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে ঘিরে মেয়াদ উত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শহরে বিশেষ বিক্ষোভ মিছিল শেষে শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সম্মুখে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

দুলাল হাজরার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা ও কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পরাগ বাড়ৈ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ এ কন্দ, চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ট্য তাঁতী প্রমূখ। এসব কর্মসূচিতে বালিশিরা ভ্যালির ৬টি চা বাগানের শ্রমিকরা অংশ নেন। 

 

এতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই)-এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চা শিল্পে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ইউনিয়নের বর্তমান নেতৃত্ব, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শ্রমিক সমাজের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে।

 

এই পরিস্থিতিতে চা শ্রমিকদের ঐক্য, শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চা বাগান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

 

স্মারকলিপি প্রদান: নির্বাচন বানচালের অভিযোগ

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালকের মাধ্যমে রেজিস্টার অব ট্রেড ইউনিয়নের মহাপরিচালকের বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। অনুরূপ স্মারকলিপি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রদান করা হয়। 

 

স্মারকলিপিতে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা এবং চা শিল্পে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই সরকারিভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছে ইউনিয়ন।

ইউনিয়নের নেতারা জানান, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। তবে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকে।

 

এ অবস্থায় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি এডহক কমিটি গঠনের দাবি তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

 

অবস্থান কর্মসূচি ও উত্তেজনা

 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সামনে কয়েকজন ব্যক্তির নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ ইউনিয়নের বৈধ চাঁদাদাতা সদস্য নন।

ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।

এমন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং চা শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় স্মারকলিপিতে।

 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং বি-৭৭)-এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছে সরকার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইনকে প্রধান করে পুনর্গঠিত এ কমিশনে সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন চা বাগানের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক অবীর চন্দ্র বালা, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সাব্বির ভূঁইয়া, এবং চা বাগান পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মনি শংকর বাউরি (দেওন্দি চা বাগান), দিপেন বুনার্জী (ফুলতলা), মঞ্জুস তাঁতি (রাজঘাট), মো. কাউসার আহমেদ (পাত্রখোলা), সন্তোষ লোহার (ভাড়াউড়া), ও মহেশ রায় (তারাপাসা চা বাগান)।

 

গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-০৯ (জ), ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালা, এবং সুপ্রিম কোর্টের রিট পিটিশন নং ৭৩৭২/২০১১ ও ৪৩১৬/২০১৬-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে শ্রম অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়। শ্রম অধিদপ্তরের ট্রেড ইউনিয়ন শাখার মহাপরিচালক এ কে এম তরিকুল আলম স্বাক্ষরিত ও পরিচালক শামীমা সুলতানা বারী অনুস্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

 

অফিস আদেশে বলা হয়, “ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার জন্য কমিশন গঠিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যয় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ফান্ড থেকে কমিশনের মাধ্যমে নির্বাহ করা হবে।”

 

এ আদেশের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি), শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, চা শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ, এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে।

 

বিতর্কের সূত্রপাত: গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

 

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

চা শ্রমিক সমাজের তরুণ ও নারী নেতৃত্বের অন্যতম মুখ গীতা রাণী কানু তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন—

“লেবার ডিপার্টমেন্ট দ্বারা পুনর্গঠিত চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কমিশন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে প্রহসনের নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যাতে দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং মালিক পক্ষ শ্রমিকদের শোষণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারে।”

 

তিনি দাবি করেন, “একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ ও আন্দোলনের পথে যেতে হবে।”

 

অন্যপক্ষের প্রতিক্রিয়া: সময়মতো নির্বাচন জরুরি

 

অন্যদিকে, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে “বহুল কাঙ্ক্ষিত” বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন—

“বাচাশ্রই নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। আশা করি কমিশন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করবে এবং চা শ্রমিকদের সংগঠনকে শক্তিশালী করবে।”

 

এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং বি-৭৭) এর ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ -০৯ (জ) বিধান মোতাবেক ৯ সদস্যের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট ও সাপ্তাহিক নতুন কথা-এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজ-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন—

“চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সময়মতো হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি কেবল সংগঠনের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার বিষয় নয়, বরং চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, ভূমি অধিকার ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য সংগঠিত দাবি উত্থাপনের মাধ্যম।”

 

তিনি আরও বলেন, চা শিল্পে বৈষম্য দুর করা, চা শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা, চা শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরা ও দরকষাকষি করা, ভূমি অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালীর নিমিত্তে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার অবাধে নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোপরি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সময়মতো হওয়াটা খুবই জরুরি। এ বিষয়টিকে অন্য কোনো যুক্তিতে ignore বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

 

তিনি আরও বলেন, “শ্রমিক নেতৃত্বে জবাবদিহিতা আনতে এবং মালিক পক্ষ ও রাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।”

 

আইন ও গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিকোণ

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৬ সালের বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং ২০১৫ সালের শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী যে কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচন “গঠনতন্ত্র-নির্ধারিত সময়ের মধ্যে” সম্পন্ন করতে হয়।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষেত্রে অতীতে বেশ কয়েকবার নির্বাচন বিলম্বিত হয়েছে, যা সংগঠনের বৈধ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

 

অন্যদিকে, হাইকোর্টের রায় (রিট ৭৩৭২/২০১১ ও ৪৩১৬/২০১৬) অনুযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান বৈধ হলেও “শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।”

সেই অর্থে, নতুন কমিশনের কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

চা শিল্পে প্রেক্ষাপট

 

বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নিবন্ধিত চা শ্রমিক এবং আরও কয়েক লাখ অস্থায়ী শ্রমিক দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শিল্পে কাজ করেন। তাদের অধিকাংশই সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ১৬০টিরও বেশি চা বাগানে নিয়োজিত।

এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী দেশের রপ্তানি আয়ে ভূমিকা রাখলেও, তাদের ন্যূনতম মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসনের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে।

 

ইউনিয়নের নেতৃত্ব এই দাবিগুলো রাষ্ট্র ও মালিক পক্ষের কাছে উপস্থাপন করে থাকে। ফলে ইউনিয়নের নির্বাচন কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং শ্রমিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখে।

 

তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: শ্রম রাজনীতির দ্বন্দ্ব ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন

 

শ্রম আন্দোলনের তত্ত্ব অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন গণতন্ত্র কেবল ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ নয়; বরং এটি সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও শ্রমিকদের ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া।

একটি ইউনিয়নের নির্বাচন বিলম্বিত হলে সেখানে “প্রতিনিধিত্বের সংকট” সৃষ্টি হয়, যা শ্রমিক আন্দোলনের দুর্বলতার কারণ হয়।

 

তবে শ্রম মন্ত্রণালয়-নির্ভর নির্বাচন কমিশন গঠন করলে তার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে—এটি শ্রম রাজনীতির দীর্ঘদিনের একটি বিতর্ক।

শ্রমিকদের দাবি, কমিশন যেন শ্রমিক-নেতৃত্বাধীন, স্বতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক হয়; আর সরকারের অবস্থান, নির্বাচন যেন আইনি কাঠামোর মধ্যে ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে হয়।

 

এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাতই চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে একটি “শ্রম রাজনীতির পরীক্ষাক্ষেত্র” হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

 

উপসংহার

 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে কমিশনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং শ্রমিক সমাজের আস্থার উপর।

 

চা শ্রমিকদের সংগঠন কেবল শিল্প নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক শ্রম আন্দোলনের প্রতীক। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে যে বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলাদেশের শ্রম রাজনীতির ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক চর্চার দিকও নির্দেশ করছে।

 


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

মৌলভীবাজারে সোনার বাংলা আদর্শ ক্লাবের মেধা যাচাই প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ।

news image

মৌলভীবাজারে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত।

news image

চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শ্রম দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান।

news image

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি....

news image

নিসচা কমলগঞ্জ শাখার উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ।

news image

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ, আটক ১

news image

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হবিগঞ্জে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে শোকজ

news image

আছিদ উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পান্না লাল বর্দ্ধনের অবসর গ্রহন।

news image

মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরাই গণমাধ্যমের মূল শক্তি।

news image

শ্রীমঙ্গলে রশনী পলি ফাইবার কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত ১, আহত ৩ 

news image

ফুলছড়া চা বাগানে এক বিশাল ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

news image

ভূমিদস্যু রফেজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে জমি দখলের অভিযোগ।

news image

শেরপুরে মাছের মেলায়, বিক্রি নিষিদ্ধ বাঘাড় (বাঘ) মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।  ‎

news image

শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে ৮ মামলায় সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

news image

তারেক রহমানের মৌলভীবাজারে জনসভার মাঠ পরিদর্শন করেন জেলা বিএনপি ।

news image

ওয়াহিদ সিদ্দেক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নতুন কমিটি,সভাপতি- খালিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক- আব্দুর রব

news image

বিএনপি নেতা এম ইদ্রিস আলীর পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

news image

শ্রীমঙ্গলে ৫০ বোতল মাদকসহ ভূনবীর এলাকা থেকে এক মাদক কারবারি আটক করেছে পুলিশ 

news image

ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা গ্রেপ্তার।

news image

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় গোরারাই বাজার বিএনপির মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত 

news image

মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ২৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ৫ জনের বাতিল

news image

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত। 

news image

কমলগঞ্জে হোসাইন কিডস প্লানেট এন্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুল উদ্বোধনী ও বই বিতরণ অনুষ্ঠিত

news image

ওয়াহিদ সিদ্দেক উচ্চ বিদ্যালয় বই বিতরণ

news image

মৌলভীবাজারে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রশিবির

news image

কমলগঞ্জে আদমপুর ইউনাইটেড কলেজ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত। 

news image

মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে এ পর্যন্ত ৩১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

news image

মৌলভীবাজার সরকার বাজারে পুলিশের অভিযানে ছাত্র আন্দোলনের মামলার আসামী গ্রেফতার

news image

শাহজালাল মর্নিং স্কুল এর বা‌র্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত। 

news image

শ্রীমঙ্গলে গরীব এন্ড এতিম ট্রাস্ট ফান্ড ইউ.কে এর পক্ষ থেকে মায়া রাণীকে জমিসহ ঘর এবং টিউবওয়েল উপহার