বই চুরি
মতামত · 2026-09-17T11:20:35.000000Z · উত্তম ঘোষ
বই পড়ার সাথে বই চুরির একটা সম্পর্ক রয়েছে । আমি নিজেই তো বই এনে পড়ে আর ফেরৎ দিইনি। এটাকেও তো চুরি বলা যেতে পারে। ছোটবেলায় কারো বুকশেলফে প্রিয় কোনো বই দেখে মন কেমন করে উঠত। নিজের কাছে নেই, অথচ বইটি চাই—এই আকাঙ্ক্ষা কখনো কখনো আমাকে বই ‘চুরি’ করতেও প্রলুব্ধ করেছে। সেই চুরিতে হয়তো ছিল না লোভ; ছিল অক্ষরের প্রতি এক দুর্নিবার টান। চুরি করা বইটি বুকের কাছে নিয়ে পড়তে পড়তে মনে হতো—আমি বুঝি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান ধনটি পেয়ে গেছি।কিন্তু সব বই চুরি এমন নিষ্পাপ নয়। কোনো পাঠাগার থেকে একটি বই হারিয়ে গেলে শুধু একটি মলাট ও কিছু পৃষ্ঠা হারায় না; হারিয়ে যায় একজন পাঠকের সম্ভাব্য একটি বিকেল, একটি ভাবনা, হয়তো একটি বদলে যাওয়া জীবন।
বই চুরি করা যায়,বইয়ের মালিকানা কেড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু অক্ষরের আলো চুরি করা যায় না। একটি বই যে হৃদয়ে একবার আশ্রয় নেয়, সেখানে সে নিঃশব্দে শিকড় ছড়ায়।অথচ দেখুন...ইরাকের বাগদাদের আল - মুতানাব্বি স্ট্রিট বহুদিন ধরেই বইপ্রেমী, লেখক ও পাঠকদের অন্যতম প্রধান মিলনস্থল। এখানে বই পড়ে থাকে রাস্তায়, চুরি হয়না! ১০ম শতকে এক বিখ্যাত আরবি কবি আল-মুতানাব্বির নামে নামকরণ করা এই রাস্তাটি ইরাকের সাহিত্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত হয়।এখানে বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ হলো,“পাঠক চুরি করে না,আর চোর বই পড়ে না।”কথাটি শুধুই রসিকতা না,বই ও জ্ঞানের প্রতি স্থানীয় মানুষের গভীর শ্রদ্ধারও প্রতিফলন এটা। ২০০৭ সালে ভয়াবহ বোমা হামলায় এই ঐতিহাসিক রাস্তা বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।তবু আল-মুতানাব্বি স্ট্রিট আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আজও বাগদাদের সাহিত্যিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে টিকে আছে।