সৌদি আরবে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
সারাদেশ · 2026-10-20T11:54:26.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
সৌদি আরবে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে বিদেশে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং ১০ লাখ টাকায় মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় শেরপুরে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনিয়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে লাভলু মিয়া (৪৯) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত জয়তুল্লাহর ছেলে। এ মামলার অন্য দুই আসামি তাঁর ভাই বাবুল মিয়া (৩৯) ও ছেলে আল-হাসিব (২৫) এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদর উপজেলার পাকুরিয়া ভাটিয়াপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন লাভলু মিয়া ও বাবুল মিয়া। এ জন্য সাইফুলের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর আগে ১২ আগস্ট সাইফুলকে পিটিসি ভাটশালায় তিন দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁর পাসপোর্ট নেওয়া হয়। পরে তাঁকে কেএসএ ভিসার একটি ফটোকপি, এক হাজার রিয়াল বেতনের চুক্তিপত্র ও মোবাইল ফোনে ই-টিকিট পাঠানো হয়।
এজাহার অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে দুই অপরিচিত ব্যক্তিসহ আসামিরা সাইফুলকে ঢাকার বিমানবন্দরে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁকে নিয়ে যান আসামি আল-হাসিব।
পরে সাইফুলকে কিছুদিন রেখে আরও পাঁচ লাখ টাকা দিলে সৌদি আরবে স্থায়ী ভিসা করে দেওয়া হবে এবং তখন তিনি বেতন পাবেন বলে জানানো হয়। এ আশ্বাসে তাঁর পরিবার আরও পাঁচ লাখ টাকা দেয়। তবে পরে আইএমও অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সাইফুল জানান, তাঁকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। জোর করে খালি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কোনো বেতন দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে লাভলু মিয়া বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সাইফুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যোগাযোগ করা হলে আসামিরা বিমানভাড়া ও কোম্পানিতে চাকরির খরচের কথা বলে আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে ছাড়বেন না বলেও জানানো হয়। এরপর আসামিরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সাইফুলের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে লাভলু মিয়া, বাবুল মিয়া ও আল-হাসিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬(২), ৭ ও ৮(২) ধারায় করা এ মামলায় আদালতের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে লাভলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মানবপাচার মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।