কলমাকান্দার জামদানি শিল্পে নতুন স্বপ্ন
সারাদেশ · 2026-10-20T09:41:29.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
শেখ শামীম : পুঁজির অভাবে মহাজন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নেত্রকোনার কলমাকান্দার জামদানি কারিগরদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি ও স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে ‘কলমাকান্দা জামদানি পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জামদানি শিল্পের উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে কায়সার কামাল এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই থেকে তিন মাসের প্রচেষ্টায় স্থানীয় জামদানি কারিগরদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। সম্প্রতি ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি ও কারিগরদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে।
কায়সার কামাল তাঁর পোস্টে জানান, কলমাকান্দার কারিগরদের জামদানি শাড়ি তৈরির দক্ষতার কথা জেনে তিনি প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁদের তৈরি শাড়ি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও নিজস্ব পুঁজির অভাবে অনেক কারিগরকে মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়।
কারিগরদের এ নির্ভরতা কমাতে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আশার কথা হলো গত দুই-তিন মাসের প্রচেষ্টার পর আজ ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং কারিগরদের নিয়ে বৈঠকের পর বলতে পারছি, আমাদের কারিগরগণ আর মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারস্থ হতে হবে না।’
তবে ঋণের সুদের হার, পরিমাণ, যোগ্যতার শর্ত এবং অর্থায়ন কার্যক্রম শুরুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কারিগররা কবে নাগাদ এবং কী শর্তে ঋণ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে কলমাকান্দার জামদানি শিল্পকে বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিতে ‘কলমাকান্দা জামদানি পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
তবে জামদানি পল্লীর সম্ভাব্য স্থান, অবকাঠামো, অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়নকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘আসুন একসাথে কাজ করি- সবাই মিলে মানবিক, উন্নত কলমাকান্দা গড়ে তুলি।’
স্থানীয় জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের পাশাপাশি কারিগরদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, পণ্যের মানোন্নয়ন ও বাজারসংযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকঋণের সুযোগ এবং জামদানি পল্লী প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলমাকান্দার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এখন এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং কারিগরদের কাছে এর সুফল পৌঁছানোই গুরুত্বপূর্ণ।