শ্রীমঙ্গলের সময়

বড়লেখায় চাঞ্চল্যকর চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন: ৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

সিলেটের খবর · 2026-10-21T15:21:00.000000Z · প্রতিবেদক, বড়লেখা


মৌলভীবাজারের


বড়লেখায় সিএনজিচালকের বাড়িতে সংঘটিত চুরির চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার চোরাই স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।​মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান।​ঘটনার বিবরণ​পুলিশ জানায়, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বড়লেখার দক্ষিণভাগ এলাকার সিএনজিচালক জসিম উদ্দিন তাঁর সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস নেওয়ার জন্য বসতঘরের দরজায় তালা দিয়ে বাইরে যান। এই সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোরেরা পেছনের জানالی খুলে ঘরে প্রবেশ করে ওয়ারড্রপে থাকা তাঁর ভাবির স্বর্ণের গলার হার, কানের দুল এবং দুটি মোবাইল ফোন (একটি রেডমি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন) চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের ওজন প্রায় ৩ ভরি এবং মোট মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা (নম্বর-১১, তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ধারা: ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।​যেভাবে ধরা পড়ে চক্রটি​মামলা রুজুর পর বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় একটি চৌকস পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে নামে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই অলিয়ার রহমান ও এএসআই নজরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় গত ২০ অক্টোবর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।​পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও সূত্র ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়:​১. পারভেজ আহমদের গ্রেপ্তার ও উদ্ধার: জিল্লুর মিয়া, মনির হোসেন ও আব্দুল আহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজ আহমদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।২. সুমন আহমদের গ্রেপ্তার: পারভেজের দেওয়া তথ্যে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সহযোগী সুমন আহমদকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।৩. জুয়েলার্সে অভিযান ও স্বর্ণ উদ্ধার: গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘিরপাড় এলাকার রহমান ম্যানশনের 'পুষ্পা জুয়েলার্স'-এ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইদুর রহমান (২৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি কানের দুল ও একটি গলার হার উদ্ধার করা হয়। বাদী নিজে এসে এই স্বর্ণালংকার শনাক্ত করেন, যার পরিমাপ পাওয়া যায় ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট।​গ্রেপ্তারকৃত ৬ আসামির বিবরণ:​১. জিল্লুর মিয়া (২৬), পিতা-আবুল মিয়া, সাং-দোহালিয়া, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।২. মনির হোসেন (৩৩), পিতা-মৃত সিরাজ উদ্দিন, সাং-আরেঙ্গাবাদ, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।৩. আব্দুল আহাদ (৪৪), পিতা-মৃত সুরুজ আলী, সাং-পূর্ব দক্ষিণভাগ, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।৪. পারভেজ আহমদ (২৭), পিতা-ফয়জুর রহমান, সাং-দোহালিয়া, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।৫. সুমন আহমদ (৩৮), পিতা-মৃত রমিজ উদ্দিন, সাং-হরিরামপুর, জুড়ী, মৌলভীবাজার।৬. সাইদুর রহমান (২৩), পিতা-মো. সমছু মিয়া, সাং-গয়াসপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ (বর্তমান ঠিকানা: পুষ্পা জুয়েলার্স, সিলেট)।​পুলিশের বক্তব্য​বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ পর্যন্ত চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার এবং বিক্রির নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা পুরোপুরি উদ্ধার করা হয়েছে।​তিনি আরও জানান, ২১ অক্টোবর আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধ দমন, চুরি প্রতিরোধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বড়লেখা থানা পুলিশের এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। যেকোনো অপরাধমূলক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত