শ্রীমঙ্গলের সময়

বিয়ের ৬ দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, আটক স্বামী-শাশুড়ি

সারাদেশ · 2026-10-21T13:17:22.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় লিমা আক্তার (২০) নামের এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নববধূর লিমার বাবা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। ওই মামলায় লিমার স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
লিমা আক্তার (২০) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাবিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর নালিতাবাড়ী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের একরামুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। নতুন সংসার শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় মেয়ের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে ফিরে আসেন শ্বশুরবাড়িতে। এ সময় বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়।

লিমার মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে লিমাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


লিমার বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে তাকে অসুস্থ বলে জানানো হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়া আমার মেয়ে মরতে পারে না। আমি মামলা করেছি। এ ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফাহাদ রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই লিমার মৃত্যু হয়েছিল।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, লিমার বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় লিমার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত