শ্রীমঙ্গলের সময়

৪৫তম বিসিএসে সুপারিশ পেয়েও গেজেটে নাম নেই বাকৃবি শিক্ষার্থীর

শিক্ষা · 2026-10-22T09:16:37.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

৪৫তম বিসিএসের কৃষি ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগের গেজেটে নাম আসেনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের। গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত গেজেটে নাম না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পুলিশ ভেরিফিকেশনে নামের বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের কারণে এমনটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এ প্রার্থী।

মো. মেহেদী হাসান বাকৃবির কৃষি অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল ৩৬তম। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গেজেটে নাম না থাকায় তার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মেহেদীর অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় একই নামের অন্য ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে তার তথ্য গুলিয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নাজমুল আহসান হলে একই নামের একাধিক শিক্ষার্থী থাকায় পরিচয় শনাক্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মামলা বা ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি নিজেই ক্যাডার থেকে অব্যাহতি নেব।’

গেজেটে নাম না আসার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একজন প্রার্থীর বছরের পর বছর পরিশ্রম, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ কী একজন তদন্ত কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও নামের বিভ্রান্তির কারণে থমকে যেতে পারে? বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, নির্ঘুম রাত, ব্যক্তিগত ত্যাগ ও পরিবারের প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, নামের বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের কারণে একজন যোগ্য প্রার্থীকে গেজেট থেকে বঞ্চিত করা হলে এর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

মেহেদীর দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অপরাধের অভিযোগ নেই। তিনি কোনো ছাত্রসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন না। তার মতে, কোনো প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তদন্তে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা সংশোধন করে সঠিক পরিচয় ও প্রমাণের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এ প্রার্থী।

মেহেদী হাসানের বাবার নাম মো. আজহার আলী এবং মায়ের নাম মোছা. মাহফুজা খাতুন। তার স্থায়ী বাড়ি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইমুল্যা গ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় প্রায় পাঁচ বছর তিনি শহীদ নাজমুল আহসান হলে ছিলেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত