অত্যন্ত উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ১৭৩টি মণ্ডপে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পূজা উদযাপিত হয়েছে।কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকায় মোট ১৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১৩টি সার্বজনীন ও ৪টি ব্যক্তিগত। অপরদিকে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৫৬টি মণ্ডপের মধ্যে ১৪৪টি সার্বজনীন এবং ১২টি ব্যক্তিগত। সার্বিক হিসাবে পুরো উপজেলায় এবার ১৫৭টি সার্বজনীন ও ১৬টি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।বিজয়া দশমীর দিন উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।এক বিজ্ঞপ্তিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন,"স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, সংবাদকর্মী, স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে।"তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, শ্রীমঙ্গলের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে, যা একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।শহর পরিচ্ছন্নতা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ঘোষণা:সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পূজা পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙানো সকল ধরনের ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হবে। এ ছাড়া পথচারী ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান উচ্ছেদ অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।