শীতের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, যা বলছে আবহাওয়া অফিস
জাতীয় · 2026-11-06T05:55:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি এবং এর মধ্যে ১ থেকে ২টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শীতের মৌসুমে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে ১ থেকে ২টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।
জানুয়ারিতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কখনো কখনো একটি বা দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বাসসকে বলেন, শীত মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের দিনক্ষণ, সংখ্যা ও ব্যাপ্তি তুলনামূলক কম থাকতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে সামগ্রিকভাবে এবার শীতকালের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কখনো কখনো তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
তিন মাসের এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
শীতের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সাধারণত ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। প্রতিবছর এ সময় বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। কখনো কখনো এসব লঘুচাপ শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।
তিনি বলেন, এ সময় সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যের আলোর প্রাপ্যতা বেশি থাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ে। তবে এ ধরনের আবহাওয়াব্যবস্থা প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় না।
বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। নভেম্বরে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার এবং বরিশাল বিভাগে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টিপাত আরও কমে আসতে পারে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেট বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর মডেল বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।