টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ অভিযান: গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি
সারাদেশ · 2026-11-06T11:20:00.000000Z · সিনিয়র রিপোর্টার
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী সশস্ত্র চক্রের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় জিম্মি থাকা ৫৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অস্ত্র ও গুলিসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহত সেনাসদস্যের নাম সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।অভিযানের নেপথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী চক্র প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রেখেছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ আভিযানিক দল ওই পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।গোলাগুলি ও সেনাসদস্যের শাহাদাতযৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ১৫ থেকে ১৬ জনের সশস্ত্র দল কোনো প্ররোচনা ছাড়াই অতর্কিত এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় আত্মরক্ষা ও জিম্মিদের উদ্ধারে যৌথ বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলিতে রূপ নেয়।অভিযান চলাকালীন মানবপাচারকারীদের ছোড়া গুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।অস্ত্র উদ্ধার, আটক ও উদ্ধার অভিযানসাহসী এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে:উদ্ধারকৃত জিম্মি: ৫৭ জন অসহায় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।আটক: মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ: ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক এবং চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বাকি পলাতক মানবপাচারকারীদের গ্রেফতারে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।