শ্রীমঙ্গলের সময়

রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম

অর্থনীতি · 2026-11-06T05:41:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

রমজান শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। এদিকে ডিম, পেঁয়াজ ও শীতের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

রমজান শুরু হতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে ছোলার দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। একই সঙ্গে ছোলার ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়েও ছোলার দাম বেড়েছে।

মালিবাগ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি আড়তদারেরা এখন ছোলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যে ছোলা ৯২ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে কিনেছেন, সেটি এখন পাইকারিতে ১০২ থেকে ১০৫ টাকা পড়ছে। রমজান আসার আগেই পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জামিল হোসেন বলেন, রমজান আসতে এখনো কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই ছোলার দাম বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য চাপ তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবছর রমজানের অজুহাতে আগেভাগেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়।

ছোলার দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির ডিম পাইকারি বাজার-সংলগ্ন এলাকায় প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এর দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল।

শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। গ্রীষ্মের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে বেগুন, শসা ও গাজরের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।

পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তবে আদা ও রসুনের দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটও কাটেনি। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকায়। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে। মানভেদে মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১৫৫ টাকা।

মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও দাম চড়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ও কাতলা ৩৬০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

রমজানের কয়েক মাস আগেই ছোলার দাম বাড়তে শুরু করায় সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত