শ্রীমঙ্গলের সময়

বড়লেখায় ‘জিন্নী হুজুরের’ নামে প্রতারণা: ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

সিলেটের খবর · 2026-11-02T18:04:00.000000Z · প্রতিবেদক, বড়লেখা


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করার লোভ দেখিয়ে ও জিনের ভয় দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত পুরো স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।​গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।​গ্রেফতারকৃতরা হলেন—​করবুল নেছা (৬০), গ্রাম: আহমদপুর, বড়লেখা।​তাজ উদ্দিন (৪৫), গ্রাম: হিনাইনগর, বড়লেখা।​বিজয় বৈদ্য (৪৮), গ্রাম: আমতৈল, জুড়ী।​রিপন মিয়া (৩৮), গ্রাম: হরিরামপুর, জুড়ী।​পুলিশ জানায়, আসামিদের হেফাজত থেকে ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার (যার মধ্যে রয়েছে ১টি সিতাহার, ২ জোড়া ঝুমকা ও ১টি আংটি) উদ্ধার করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী নারী নিজে শনাক্ত করেছেন।​যেভাবে হতো প্রতারণা:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের রোকেয়া বেগমকে এক অজ্ঞাতনামা নারী ফোন করে জানান যে, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ সুস্থ করে দিতে পারবেন। তবে এজন্য কিছু শর্ত মানতে হবে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে হবে; কাউকে জানালে ছেলের বড় ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখানো হয়।
​ছেলের সুস্থতার আশায় সরলবিশ্বাসে ভুক্তভোগী নারী কথামতো বসতঘরের পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনার ওপর একটি পরিষ্কার বাটিতে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর ফিরে গিয়ে দেখেন স্বর্ণালংকারগুলো গায়েব।
​পরে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হয়ে গেলে সব ফেরত পাওয়া যাবে। এর কিছুদিন পর গত ১৬ অক্টোবর চক্রটি পুনরায় ফোন করে আরও স্বর্ণালংকার একই স্থানে রাখতে বলে। এবার ভয় দেখানো হয়, স্বর্ণালংকার না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে এবং রাখলে আগেরটিসহ সব ফেরত দেওয়া হবে। ছেলের জীবন ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ভুক্তভোগী নারী দ্বিতীয় দফায়ও স্বর্ণালংকার রেখে আসেন, যা একইভাবে আত্মসাৎ করে চক্রটি। দুই দফায় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।​পুলিশের সফল অভিযান:
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস ও এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে আটক করা হয়।
​বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত চারজনকে আজ (২ নভেম্বর) বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
​বিশেষ সতর্কতা: এ ধরনের কথিত জিনের আছর বা হুজুরের নামে অলৌকিক উপায়ে রোগ মুক্তির নামে প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে সর্বসাধারণকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত