৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার তারিখ ঘোষণা, থাকছে যেসব নতুন আয়োজন
জাতীয় · 2026-11-08T02:23:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী এ আয়োজন চলবে। এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি থাকছে নতুন প্যাভিলিয়ন, বিশেষ প্রদর্শনী গ্যালারি, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও নানা আয়োজন।
নতুন বছরের প্রথম দিনেই পর্দা উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য আয়োজন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হবে ৩১তম আসর। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এবারের মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি থাকছে নতুন কিছু আয়োজন।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেলা অনুষ্ঠিত হলেও ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ মেলায় অংশ নেয়। পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকে খাবারের দোকান, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
এবারের মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইপিবি। এ লক্ষ্যে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করেছে সংস্থাটি। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
প্রতিবছর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালে পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিংকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের বর্ষপণ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ইপিবি।
মেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৯ অক্টোবর ছয়টি খাতে দরপত্র আহ্বান করেছে ইপিবি। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, অবকাঠামো নির্মাণ ও সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, প্রচার-প্রচারণা, নিরাপত্তা এবং সমাপনী অনুষ্ঠান। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা। ১৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় দরদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা দরপত্র জমা দিতে হবে। দরপত্রের দলিলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, আমন্ত্রণপত্র, স্মারকগ্রন্থ, ভিআইপি ও সাধারণ পাস এবং অতিথিদের উপহারের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানে সাজসজ্জার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অবকাঠামো ও সাজসজ্জার আওতায় প্রদর্শনী হলের ভেতরে ও বাইরে স্টল, প্যাভিলিয়ন, খাবারের দোকান, নামাজের স্থান, প্রধান ফটক, ভিআইপি ফটক, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং বিশেষ প্রদর্শনী গ্যালারি নির্মাণ করা হবে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্যালারি বা প্যাভিলিয়ন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মেলার পুরো আয়োজন পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রদর্শনী হল, টয়লেট, উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ, সামনের সড়ক ও পার্কিং এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হবে। আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণের দায়িত্বও দরপত্রের আওতায় রাখা হয়েছে।
প্রচার-প্রচারণার জন্য তৈরি করা হবে প্রামাণ্যচিত্র, প্রচারমূলক ভিডিও, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল কনটেন্ট। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও লিংকডইনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলার প্রচার চালানো হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং যানবাহন তল্লাশির সরঞ্জাম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও এলইডি পর্দার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁকে পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হবে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নাম ও আয়োজন নিয়ে অতীতেও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট ইপিবির ১৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে মেলার নাম থেকে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত নাম ছিল ঢাকা বাণিজ্য মেলা বা ডিটিএফ। তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ না নিয়ে স্থানীয় এজেন্ট বা প্রতিনিধির মাধ্যমে মেলায় অংশ নেয়। এতে পণ্যের মান ও ব্র্যান্ডের সত্যতা যাচাই নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পরে সরকার ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা হলেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণ, বিদেশি ক্রেতা ও আমদানিকারকদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে থাকে না। একই ধরনের পণ্যের অনেক স্টল থাকলেও নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের প্রদর্শনী তুলনামূলক কম।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এখন দেশের মানুষের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, প্রতিবছর অসংখ্য স্টল বসে এবং মানুষ কেনাকাটা করেন। মেলাকে আরও আন্তর্জাতিক রূপ দিতে রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বৈচিত্র্যপূর্ণ রপ্তানি পণ্য উৎপাদকদের বিনা মূল্যে স্টল বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে, নতুন আয়োজনগুলো দর্শনার্থীদের কতটা আকৃষ্ট করে এবং দেশীয় রপ্তানি পণ্যের প্রচারে মেলাটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।