বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে ছাত্রী, এরপর যা ঘটল বিদ্যালয়ে
জাতীয় · 2026-11-08T01:49:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে মোশারফ হোসেন মুসা নামের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগ ওঠার পর কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে। ওই সভায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তসলিম আরিফও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আয়েশা আক্তারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী শিক্ষক মিলন কাজী ও মান্নান হোসেন এবং অভিভাবক সদস্য টিটু ফকির ও সানাউল্লাহ। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেনের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর রাতে ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে যান। পরে চাপের মুখে শিক্ষক তাঁকে গোপনে বিয়ে করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে অন্য শিক্ষকেরা তাঁকে প্রবেশে বাধা দেন। পরে কোনো ক্লাস না নিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ রাষ্ট্রীয় অপরাধ। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার ঘটনায় শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।