প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, এবার কাটছে জট?
শিক্ষা · 2026-11-04T02:56:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত, চাকরির নথি যাচাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। চলতি নভেম্বরের মধ্যে এসব নথি সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক পদগুলো পূরণে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এ প্রক্রিয়ায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত, চাকরির নথি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটার পর পদোন্নতির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব নথি প্রস্তুত করে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পিএসসির যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর নথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬২০টি। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের এসব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি অনুসরণ করে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
পদোন্নতি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে মঙ্গলবার একটি অফিস আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আদেশে বলা হয়েছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট অভিযোগগুলো আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পদোন্নতির তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিভাগীয় উপপরিচালকের মাধ্যমে পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় নথিপত্র পিএসসিতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পিএসসি এসব নথি যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পর ফেরত পাঠালে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের মূল বিষয় ছিল জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ। ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রণীত একটি বিধিমালায় বলা হয়েছিল, সদ্য জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের অবস্থান হবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে। পরে হাইকোর্ট ওই ধারাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম আটকে যায়।
পরবর্তী সময়ে মামলার স্থগিতাদেশের পর ২০২৩ সালে কয়েকটি জেলার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে সেই কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছরের ২ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত ১৩ বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটান। পরে ২৫ অক্টোবর ওই মামলার ২৯ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ ও নির্দেশনার অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর পরই পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।