শ্রীমঙ্গলের সময়

শ্রীমঙ্গলে আলোচিত সাবানা হত্যা মামলা: চারজনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের কারাদণ্ড

সিলেটের খবর · 2026-10-29T16:21:00.000000Z · প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার


​মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া আলোচিত সাবানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোঃ আনোয়ারুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ ঐতিহাসিক রায় দেন।

​মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা

​মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— ফারুক মিয়ার দুই ছেলে মোঃ নাসির মিয়া (২৬) ও বিল্লাল মিয়া (৩০) এবং নিহত সাবানার দুই সৎ ভাই দুলাল মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫)। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিচারক তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সাজা প্রদান করেন।

​সাজাপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা

​মামলার অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে:

  • ​মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়া (৫০): নিহতের মা ও মামলার বাদী মায়া বেগমকে গুরুতর জখম করার অপরাধে (দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারা) তাঁকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

  • ​জয়নাল আবেদীন (৫৫): সেলিনা বেগমকে আঘাত করার দায়ে (দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা) তাঁকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

​অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ভুনবীর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার মিয়া, জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, মোঃ আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগমকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিচার চলাকালে আসামি রাজা মিয়া, ছুরুক মিয়া ও ফারুক মিয়া মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের আইনগত দায় (প্রসিডিং) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

​ঘটনা ও মামলার প্রেক্ষাপট

​মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের লইয়ারকুল গ্রামে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। উক্ত ড্রেন নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা সাবানাকে উপর্যুপরি আঘাত করে মারাত্মক জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সাবানার মৃত্যু হয়।


​এ ঘটনায় নিহতের পরিবার আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (মামলা নং: দায়রা ৪৪/২০১৭, সিআর ৯৬/১৬)। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে।


​রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য

​মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল ওয়াহিদ এবং পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসাইন।


​রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, "জমি ও ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

​এদিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় একদিকে যেমন সাজাপ্রাপ্তদের স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে, অন্যদিকে নিহতের স্বজনদেরও বিচার পেয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত