শ্রীমঙ্গলের সময়

গাজায় এক রাতের বৃষ্টিতে পানির নিচে ৭০ হাজার তাঁবু

বিশ্ব · 2026-11-08T15:31:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

মৌসুমের প্রথম শীতকালীন ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা। মাত্র ১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নতুন করে আশ্রয়সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রাথমিক হিসাবে, ঝড় ও বৃষ্টিতে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ধসে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মাত্র ১০ ঘণ্টায় তারা প্রায় দেড় হাজার জরুরি সহায়তার আবেদন পেয়েছে। কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টির পানি ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত জমেছে।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, যে পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল, সেটিই বাস্তবে ঘটেছে। বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা আবারও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

গাজা সিটি, খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহর বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে বাস্তুচ্যুত মানুষের বিছানা, কম্বল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। কোথাও কোথাও শিশুদের কাদা ও পয়োনিষ্কাশনের পানির মিশ্রণে তৈরি নোংরা পরিবেশে থাকতে হচ্ছে।

প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসে মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকায় একটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। উত্তর গাজায় দেয়াল ধসে দুজন আহত হয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

গাজার জরুরি বিষয়ক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র শীতের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় দুই লাখ তাঁবু ও শীত নিবারণের সরঞ্জাম প্রয়োজন। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নেওয়া এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি পরিবারের তাঁবু সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টির কারণে স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হয়েছে। গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ পানিতে তলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অকার্যকর ছিল। হাসপাতালটির পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সতর্ক করে বলেছেন, দূষিত পানির কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, পেটের অসুখ ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এ পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ, তাঁবু ও পুনর্নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা দেওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন রক্ষায় দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং জরুরি আশ্রয়সামগ্রী সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে গাজার কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: আল জাজিরা,

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত