সরকারি অফিস চত্বরে কর্মচারীর বৌভাত, লিখিত অনুমতি ছাড়াই আয়োজন মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন দুই কর্মকর্তা
সারাদেশ · 2026-11-08T13:26:21.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক কর্মচারীর বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে দুপুরে কার্যালয় চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জানা গেছে, একই কার্যালয়ের এক কর্মচারীর পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।জনসাধারণের সেবায় নিয়োজিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি ছুটির দিন হলেও সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে, তা জানতে চান সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
কার্যালয় চত্বরে বৌভাত অনুষ্ঠানের অনুমতির বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু সাঈম বলেন, ছুটির দিন তো, আমাদের অনেক বড় ক্যাম্পাস। এমন কোনো জনসেবা বিঘ্নিত হয়নি। নালিতাবাড়ীতে এমন কোনো কমিউনিটি সেন্টারও নেই। অফিসের স্টাফ অনুমতি চেয়েছে। মোটামুটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে, পরামর্শ করে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি সবাই জানেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সবাই ইনভলভড হয়েছেন। আমার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও জানেন, তিনিও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। জনসেবা কোনো ধরনের বিঘ্নিত হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাই সবার সঙ্গে কথা বলে অনুমতি দিয়েছি।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের স্টাফ কোয়ার্টারে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা গিয়েছি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিয়ের বৌভাতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমার অনুমতি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তাই আমি এ বিষয়ে জানি না। আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল, আমি সে কারণে গিয়েছিলাম।
শেরপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানুল হক ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আজকে বন্ধের দিন, সেই হিসেবে করেছে। আজ অফিস খোলা না। বিয়ের বৌভাতের অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমার মৌখিক পারমিশন নিয়েছে। আমাকে জানিয়েছে। আমি বলেছি, যেহেতু বন্ধের দিন, সমস্যা নেই এইটুকুই। সরকারি অফিস প্রাঙ্গণে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে কি না, এ বিষয়ে গেজেট আকারে কোনো বিধান আছে কি না, তা আমার জানা নেই।
তিনি আরও বলেন,মোঃ মোস্তফা কামাল আমাদের স্টাফ। সে আমাদের ঘাস প্রকল্পের মাঠ সহকারী। সে বৌভাতের অনুষ্ঠান নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেতরে করবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো অনুমতি নেয়নি। মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছে, আমি অনুমতি দিয়েছি। সেখানে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সে অনুমতি নিয়েছে বলে যতটুকু জানি। বিয়ের অনুষ্ঠানে নালিতাবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. শামসাদ জাহান শিরাজী বলেন, সরকারি অফিস চত্বরে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে কি না, এ বিষয়ে আমার সঠিক তথ্য জানা নেই। তবে নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বরে বিয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি আপনার মাধ্যমেই জেনেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। বিস্তারিত জানব। জেনে আপনাকে আগামীকাল অফিস চলাকালীন সময়ে জানাব। বিয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে মূল ঘটনাটি কী তা জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।