শ্রীমঙ্গলের সময়

১০ দিনের অভিযান শেষে হেবরন ছাড়ল ইসরায়েলি বাহিনী

বিশ্ব · 2026-11-02T07:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরন শহর থেকে ১০ দিনের সামরিক অভিযান শেষে সেনা প্রত্যাহার করেছে ইসরায়েল। সেনারা চলে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে তিন হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অথবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২ নভেম্বর) হেবরনের গভর্নর খালেদ দুদিন জানান, ইসরায়েলি সেনারা সরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী। যেসব পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল, তারা এখন ফিরে যেতে পারবেন।

গভর্নর বলেন, বাসিন্দারা যাতে নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁদের নিরাপদে ফেরার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে।

গত ২৩ অক্টোবর দুই ফিলিস্তিনির চালানো এক বন্দুক হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হওয়ার পর হেবরনে অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। পরে ওই দুই হামলাকারীকে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা।

এরপর টানা ১০ দিন হেবরন শহর ও আশপাশের গ্রামগুলোতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কয়েকটি এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করে সামরিক চৌকি স্থাপন করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় বাড়িঘর, বিভিন্ন স্থাপনা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার পাশাপাশি বহু পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয় বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

হেবরন গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে তিন হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অথবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আল-জালদা ও আইন দেইর বাহা এলাকায় এর প্রভাব ছিল বেশি। এ ছাড়া ১৫টি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গভর্নরেট আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি অভিযানে স্থানীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষাকার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

সেনা প্রত্যাহারের পর বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর বাড়িতে ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত