৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি জটিলতা নেই, পূর্ণাঙ্গ রায়
জাতীয় · 2026-10-26T09:10:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথে দীর্ঘদিনের আইনি বাধা কাটার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে। জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে আগের চাকরিকাল গণনার বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তাও রায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুরের পর রায়টি প্রকাশ করা হয়। এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা কাটার পথ তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন।
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁদের দাবি ছিল, বিদ্যালয় জাতীয়করণের আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সময়ের ৫০ শতাংশ গণনা করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল, আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধাও দাবি করেন তাঁরা।
রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা, ২০১৩-এর ৯(১) বিধির একটি অংশ বেআইনি ঘোষণা করেন। ওই বিধিতে জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়ম উল্লেখ ছিল।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ সেই আবেদন মঞ্জুর করার পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত আপিল করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরাও এ বিষয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
সব পক্ষের বক্তব্য ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে ২০১৩ সালের বিধিমালার প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের আগের চাকরিকালের ৫০ শতাংশকে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণনা করার বিধান তাঁদের নিজেদের মধ্যকার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে প্রযোজ্য হবে। এই সুবিধা ব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ওপর জ্যেষ্ঠতা দাবি করার সুযোগ নেই—এমন ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে রায়ে।
এ বিরোধের কেন্দ্রে ছিল জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের চাকরির পূর্ববর্তী সময় গণনা এবং সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে তাঁদের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিধিমালার যে অংশ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেল।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি বাধা কাটলেও নিয়োগের পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ, প্রযোজ্য যোগ্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নির্ভর করবে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হয়েছে; তবে এতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে—এমন নয়।