শ্রীমঙ্গলের সময়

ইউসিবি থেকে বিকাশে ৭০ দফায় ৩৪ লাখ টাকা উধাও, তদন্তে পুলিশ

সারাদেশ · 2026-10-27T10:44:00.000000Z · জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি শাখার এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, দুই দিনে ৭০ দফায় বিকাশ অ্যাড মানির মাধ্যমে এসব টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি শাখার এক গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ ও ২৫ অক্টোবর দুই দিনে ৭০ দফায় বিকাশ অ্যাড মানির মাধ্যমে এসব টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে বলে ব্যাংক স্টেটমেন্টে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী গ্রাহক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। তাঁর করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কারা, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় টাকা স্থানান্তর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সদর, রামু ও ঈদগাঁও সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের স্বার্থে তিনি ভুক্তভোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ভুক্তভোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক জানান, তিনি নিজে কোনো অ্যাপ বা অনলাইন ব্যাংকিং কার্ড ব্যবহার করেন না। তাঁর মোবাইল ফোনেও কোনো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা বার্তা আসেনি। এরপরও ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা স্থানান্তরের ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। সেদিন অধ্যাপক মুজিবুল হক তাঁর এক কর্মচারীকে ব্যাংকের ঈদগাঁও শাখায় টাকা উত্তোলনের জন্য পাঠান। কিন্তু কর্মচারীকে জানানো হয়, তাঁর হিসাবে টাকা নেই। পরে তিনি নিজে ব্যাংকে গিয়ে হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি জানতে চান। এ সময় শাখা ব্যবস্থাপক তাঁকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তিনি ঈদগাঁও থানায় জিডি করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এএসপি মাহমুদুল হাসানকে। তিনি ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদারকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

এএসপি মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জিডির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

ব্যাংক স্টেটমেন্টে ৭০ দফায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিকাশ অ্যাড মানির মাধ্যমে স্থানান্তরের তথ্য পাওয়া গেলেও লেনদেনগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত