শ্রীমঙ্গলের সময়

মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করার নিয়ম (আপডেট)

জাতীয় · 2026-11-02T08:21:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

DESCO, DPDC, NESCO, WZPDCL ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল, ব্যবহার ও প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারেন। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই সুবিধা নেই এবং সব তথ্য রিয়েল টাইমে পাওয়া যায় না। সঠিক অ্যাপ বা পোর্টাল নির্বাচন, মিটার নম্বর দিয়ে নিবন্ধন এবং তথ্য যাচাইয়ের নিয়ম এই গাইডে তুলে ধরা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিল কত আসছে, প্রিপেইড মিটারে কত টাকা অবশিষ্ট আছে কিংবা প্রতিদিন কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে—এসব তথ্য জানার জন্য এখন আর সব সময় মিটারের সামনে দাঁড়াতে হয় না। বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন গ্রাহকসেবা, স্মার্ট মিটার অ্যাপ কিংবা নির্দিষ্ট প্রিপেইড মিটার পোর্টালের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই মোবাইল ফোন থেকেই এসব তথ্য দেখা সম্ভব। ফলে বাসায় না থাকলেও নিজের বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার ও রিচার্জের হিসাব সম্পর্কে ধারণা রাখা যায়।

বাংলাদেশে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (DESCO), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (DPDC), নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (NESCO), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (WZPDCL) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (BREB) অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবা রয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের অ্যাপের নাম, নিবন্ধন পদ্ধতি ও সুবিধা এক রকম নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়, আবার কোথাও প্রিপেইড ও পোস্টপেইড গ্রাহকদের জন্য আলাদা অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—স্মার্ট মিটার, প্রিপেইড মিটার ও পোস্টপেইড মিটারের তথ্য দেখার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। সব মিটারের প্রতিটি তথ্য মোবাইলে রিয়েল টাইমে দেখা যায় না। তাই নিজের বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সেবা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়।

মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটরিং করতে কী লাগবে?

মোবাইল ফোন দিয়ে মিটার মনিটর করার আগে কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখতে হবে। প্রথমত, আপনার বিদ্যুৎ সংযোগটি কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে তা জানতে হবে। যেমন—DESCO, DPDC, NESCO, WZPDCL অথবা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপর বিদ্যুৎ বিল, মিটার কার্ড, রিচার্জের রসিদ অথবা আগের কোনো বিল থেকে গ্রাহক নম্বর, অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা মিটার নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর, ইমেইল, OTP বা নির্দিষ্ট গ্রাহক পরিচিতি প্রয়োজন হতে পারে। আবার কিছু পোর্টালে শুধু গ্রাহক বা মিটার নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেখা যায়। তাই নিবন্ধনের আগে নিজের বিলের কাগজে থাকা তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

এ ছাড়া মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ এবং হালনাগাদ ব্রাউজার বা অ্যাপ থাকা প্রয়োজন। অপরিচিত ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অ্যাপের পরিবর্তে বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংক অথবা Google Play Store-এ প্রকাশকের পরিচয় যাচাই করে অ্যাপ ইনস্টল করা উচিত।

DESCO স্মার্ট প্রিপেইড মিটার মোবাইলে মনিটর করার নিয়ম

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বা DESCO-এর গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড মিটারের তথ্য দেখার একটি নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স, দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং রিচার্জের ইতিহাস দেখতে পারেন।

DESCO-এর প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা হলো POISA বা DESCO Prepaid Customer Portal। মোবাইল ফোনের Chrome বা অন্য কোনো ব্রাউজার থেকে https://prepaid.desco.org.bd/customer ঠিকানায় প্রবেশ করে গ্রাহক অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবেন।

প্রথমবার ব্যবহার করলে পোর্টালে থাকা নিবন্ধন বা Sign Up নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমার আইডি, মোবাইল নম্বর এবং নির্ধারিত তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। আগে থেকে নিবন্ধন করা থাকলে লগইন করলেই নিজের মিটারের তথ্য পাওয়া যাবে।

লগইন করার পর Remaining Balance অপশন থেকে অবশিষ্ট টাকা দেখা যায়। Daily Consumption অংশে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব এবং Monthly Consumption অংশে মাসভিত্তিক ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। Recharge History থেকে আগের রিচার্জের পরিমাণ ও লেনদেনের অবস্থা যাচাই করা যায়। ফলে কোনো রিচার্জ সফল হয়েছে কি না, সেটিও পোর্টাল থেকে মিলিয়ে দেখা সম্ভব।

DESCO-এর প্রিপেইড পোর্টালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি শুধু রিচার্জের জন্য নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব পর্যবেক্ষণের জন্যও ব্যবহার করা যায়। তবে অনলাইনে প্রদর্শিত ব্যালেন্স সব সময় মিটারের সামনের স্ক্রিনে দেখা তাৎক্ষণিক ব্যালেন্সের সঙ্গে হুবহু মিলবে এমন নয়। DESCO-এর FAQ অনুযায়ী, অনলাইনে প্রদর্শিত ব্যালেন্স গত ২৪ ঘণ্টার কোনো এক সময়ের তথ্য হতে পারে। তাই একেবারে বর্তমান ব্যালেন্স নিশ্চিত হতে মিটারের স্ক্রিনে Credit বা Balance তথ্যও দেখে নেওয়া উচিত।

DESCO-এর প্রিপেইড মিটার রিচার্জের জন্য বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। তবে পেমেন্টের আগে সঠিক বিলার, গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

DPDC স্মার্ট মিটার মোবাইলে মনিটর করার নিয়ম

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা DPDC-এর আওতাভুক্ত গ্রাহকদের জন্য DPDC Smart Meter Customer App নামে একটি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার পর্যবেক্ষণ, বিল ও পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য দেখা এবং গ্রাহকসেবা নেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা Google Play Store-এ “DPDC Smart Meter Customer App” লিখে অ্যাপটি খুঁজে নিতে পারেন। অ্যাপের প্রকাশক, পরিচিতি এবং অনুমোদিত লিংক যাচাই করে ইনস্টল করা উচিত। অ্যাপের সরাসরি লিংক: https://play.google.com/store/apps/details?id=bd.org.dpdc.amiapp_release.twa

অ্যাপ ইনস্টল করার পর নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় DPDC-এর গ্রাহক পরিচিতি, মিটার বা অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত তথ্য এবং মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। এরপর নিজের সংযোগ যুক্ত করা গেলে অ্যাপের Dashboard বা সংশ্লিষ্ট মেনু থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখা যায়।

অ্যাপটির প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য দেখতে, বিল পরিশোধ করতে, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে এবং সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে কোন গ্রাহক কোন তথ্য দেখতে পারবেন, তা তার সংযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট মিটার ডেটা সিস্টেমের ওপর নির্ভর করতে পারে।

বিশেষ করে প্রিপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে রিচার্জের তথ্য এবং পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিল ও ব্যবহারের হিসাব আলাদা মেনুতে থাকতে পারে। তাই অ্যাপ ইনস্টল করলেই সব গ্রাহক একই ধরনের ব্যালেন্স, ইউনিট বা রিচার্জ হিস্ট্রি দেখতে পাবেন—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

অ্যাপে নিবন্ধন করতে সমস্যা হলে, OTP না এলে অথবা মিটার যুক্ত না হলে DPDC-এর অফিসিয়াল গ্রাহকসেবা চ্যানেলে যোগাযোগ করা উচিত। কোনো তৃতীয় পক্ষকে নিজের OTP, পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের গোপন তথ্য দেওয়া যাবে না।

NESCO প্রিপেইড মিটার মোবাইলে মনিটর করার নিয়ম

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় NESCO-এর বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম রয়েছে। NESCO গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—দুই ধরনের গ্রাহকসেবা পোর্টাল এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের ব্যবস্থা রয়েছে।

NESCO-এর গ্রাহকসেবা পোর্টালে প্রবেশের ঠিকানা https://customer.nesco.gov.bd/। এই পোর্টালে প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ ও ব্যবহারসংক্রান্ত সেবা এবং পোস্টপেইড গ্রাহকদের বিল দেখার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রিপেইড গ্রাহকরা পোর্টালে প্রবেশ করে প্রিপেইড গ্রাহকসেবা বা সংশ্লিষ্ট মেনু নির্বাচন করবেন। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহক নম্বর বা মিটার নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে হবে। নিবন্ধন বা লগইন প্রয়োজন হলে সেটি সম্পন্ন করে মিটারের তথ্য দেখা যাবে।

পোর্টালের মাধ্যমে প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ ও ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য এবং ভেন্ডিং টোকেনের তথ্য পাওয়া যায়। পোস্টপেইড গ্রাহকদের জন্য বিল দেখার আলাদা অপশন রয়েছে। ফলে নিজের সংযোগের ধরন অনুযায়ী সঠিক সেবা নির্বাচন করা জরুরি।

NESCO-এর নিজস্ব অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার, বিলের পরিমাণ দেখা, বিল পরিশোধ এবং নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। তবে প্রিপেইড মিটারের সব তথ্য অ্যাপে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে প্রিপেইড গ্রাহক পোর্টাল ব্যবহার করাই ভালো।

NESCO-এর অফিসিয়াল গ্রাহকসেবা পোর্টালে হটলাইন নম্বর ১৬৬০৩ উল্লেখ রয়েছে। মিটার নম্বর দিয়ে তথ্য না পাওয়া, রিচার্জের পর টোকেন না আসা অথবা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য ভুল দেখালে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

WZPDCL বা ওজোপাডিকোর মিটার মোবাইলে মনিটর করার নিয়ম

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বা WZPDCL খুলনা, বরিশালসহ পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য “West Zone Prepaid” নামে একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ চালু রয়েছে।

Google Play Store-এ “West Zone Prepaid” লিখে অ্যাপটি খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যাপ ইনস্টল করার আগে প্রকাশক হিসেবে WZPDCL বা প্রতিষ্ঠানের ICT Section-এর পরিচয় যাচাই করে নেওয়া উচিত। WZPDCL-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে অ্যাপটির গোপনীয়তা নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অ্যাপটির নাম এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় উল্লেখ রয়েছে।

অ্যাপটি ব্যবহার করতে প্রথমে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বর, গ্রাহকের নাম, ঠিকানা এবং WZPDCL-এর প্রিপেইড মিটার নম্বর চাওয়া হতে পারে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের মিটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে।

এ ছাড়া WZPDCL-এর সাধারণ গ্রাহকসেবার জন্য “WZPDCL Customer Service” নামেও অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড সেবা, অভিযোগ, সংযোগসংক্রান্ত তথ্য, অফিস ও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সাধারণ Customer Service অ্যাপ এবং প্রিপেইড মিটার মনিটরিং অ্যাপের কাজ এক নয়। তাই প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স বা রিচার্জসংক্রান্ত তথ্য দেখতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রিপেইড সেবাটি ব্যবহার করতে হবে।

অ্যাপে মিটারের তথ্য না এলে বা রিচার্জের হিসাব মিল না হলে WZPDCL-এর সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে যোগাযোগ করা উচিত। কারণ মিটার বা গ্রাহক অ্যাকাউন্টের তথ্য ভুল থাকলে অ্যাপ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে।

পল্লী বিদ্যুৎ বা BREB গ্রাহকদের মিটার মনিটর করার নিয়ম

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গ্রাহকদের জন্য “পল্লীবিদ্যুৎ সেবা” নামে একটি অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ রয়েছে। অ্যাপটি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অভিযোগসংক্রান্ত গ্রাহকসেবা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

Google Play Store-এ “পল্লীবিদ্যুৎ সেবা” লিখে অ্যাপটি খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যাপের অফিসিয়াল লিংক হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ওয়েবসাইটে https://play.google.com/store/apps/details?id=com.myreb ঠিকানাটি দেওয়া হয়েছে।

অ্যাপ ইনস্টল করার পর নিজের গ্রাহকসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা ব্যবহার করতে হবে। অ্যাপের সংস্করণ ও সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেবার আওতা অনুযায়ী বিল, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অভিযোগের তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা দরকার—“পল্লীবিদ্যুৎ সেবা” অ্যাপ থাকলেই সব পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক তাদের প্রিপেইড মিটারের প্রতিটি তথ্য, যেমন তাৎক্ষণিক ব্যালেন্স, দৈনিক ব্যবহার, লোড অন-অফ অবস্থা বা রিচার্জ হিস্ট্রি একইভাবে দেখতে পারবেন, এমন নয়। কোন তথ্য পাওয়া যাবে তা সংশ্লিষ্ট সমিতি, মিটার প্রযুক্তি এবং অ্যাপের সেবার ওপর নির্ভর করে।

পল্লী বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ও অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করা যায়। তবে রিচার্জ করার সময় নিজের সমিতি, গ্রাহক নম্বর এবং মিটার নম্বর সঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি। ভুল নম্বরে রিচার্জ হলে টাকা ফেরত বা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।

মোবাইল দিয়ে প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স দেখবেন যেভাবে

প্রিপেইড মিটারে আগে টাকা জমা দিতে হয় এবং সেই টাকা থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কেটে নেওয়া হয়। তাই নিয়মিত ব্যালেন্স দেখা জরুরি। ব্যালেন্স কমে গেলে সময়মতো রিচার্জ না করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মোবাইল দিয়ে ব্যালেন্স দেখতে প্রথমে নিজের বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অ্যাপ বা অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করুন। এরপর নিজের গ্রাহক অ্যাকাউন্টে লগইন করে মিটার বা সংযোগ নির্বাচন করুন। Dashboard-এ Remaining Balance, Available Balance, Current Credit অথবা একই অর্থের কোনো অপশন থাকলে সেখানে অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ দেখা যেতে পারে।

কিছু প্রতিষ্ঠানের অনলাইন পোর্টালে মিটারের ব্যালেন্স নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ হয়। তাই অ্যাপে দেখানো ব্যালেন্স এবং মিটারের স্ক্রিনে দেখানো ব্যালেন্সের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। জরুরি সময়ে মিটারের বোতাম চেপে Credit বা Balance অপশন দেখে নেওয়াই ভালো।

ব্যালেন্স কমে গেলে অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংকিং অ্যাপ, অনলাইন পোর্টাল অথবা নির্ধারিত ভেন্ডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। রিচার্জ সম্পন্ন হওয়ার পর SMS, ডিজিটাল রসিদ বা টোকেন সংরক্ষণ করুন। এরপর পোর্টালের Recharge History থেকে লেনদেনের অবস্থা মিলিয়ে নিন।

মোবাইল দিয়ে দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখবেন কীভাবে?

বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে শুধু বিলের টাকা জানা যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, কোন সময়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এবং মাস শেষে মোট ব্যবহার কত দাঁড়াচ্ছে—এসব তথ্য জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সহজ হয়।

আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান যদি দৈনিক ও মাসিক ব্যবহারের তথ্য দেখার সুবিধা দেয়, তাহলে অ্যাপ বা পোর্টালে লগইন করে Daily Consumption অথবা Monthly Consumption মেনুতে যেতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট দিন বা মাসের ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ধরুন, কোনো দিন আপনার বাসায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। সেদিন অতিরিক্ত এসি, হিটার, আয়রন, পানির পাম্প বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো হয়েছিল কি না, তা মিলিয়ে দেখতে পারেন। একইভাবে কয়েক মাসের ব্যবহার তুলনা করলে কোন মাসে বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে, সেটিও বোঝা যায়।

তবে সব মিটারে দৈনিক ও মাসিক গ্রাফ পাওয়া যায় না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে শুধু মাসিক ব্যবহার বা বিলের পরিমাণ দেখা যায়। আবার ডেটা আপডেট হতে সময় লাগতে পারে। তাই আপনার অ্যাপে নির্দিষ্ট অপশন না থাকলে সেটিকে মিটারের ত্রুটি মনে করার আগে প্রতিষ্ঠানের সেবা তালিকা যাচাই করুন।

পোস্টপেইড মিটারের বিল ও ইউনিট মোবাইলে দেখার নিয়ম

পোস্টপেইড মিটারে আগে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়, পরে নির্দিষ্ট সময়ের বিল তৈরি হয়। এ ধরনের মিটারে প্রিপেইডের মতো অবশিষ্ট টাকা বা Remaining Balance দেখা যায় না। বরং মাসিক বিল, ব্যবহৃত ইউনিট, বিল পরিশোধের অবস্থা এবং আগের বিলের তথ্য দেখা যায়।

DESCO, DPDC, NESCO এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গ্রাহকসেবা পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টপেইড বিল দেখা যেতে পারে। নিজের প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে গ্রাহক নম্বর বা অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে বিল যাচাই করতে হবে।

NESCO-এর গ্রাহকসেবা পোর্টালে পোস্টপেইড বিল দেখার আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। DESCO-এর অ্যাপেও বিল দেখা, পরিশোধ এবং আগের ১২ মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখার সুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন তথ্য পাওয়া যাবে তা গ্রাহকের সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে।

বিলের ইউনিট বেশি মনে হলে আগের মাসের সঙ্গে তুলনা করুন। একই সঙ্গে বিলের রিডিং, বিলের সময়কাল এবং মিটারের বর্তমান রিডিং মিলিয়ে দেখা ভালো। কোনো অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানান।

মোবাইল দিয়ে মিটার মনিটরিং করলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?

মোবাইল দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটর করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দূর থেকে নিজের সংযোগের তথ্য জানার সুযোগ। বাসায় না থাকলেও অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপে প্রবেশ করে সমর্থিত তথ্য দেখা যায়। ফলে মিটারের কাছে গিয়ে প্রতিবার রিডিং দেখার প্রয়োজন কমে।

প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য ব্যালেন্স ও রিচার্জের ইতিহাস দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে কত টাকা রিচার্জ করা হয়েছে, কখন রিচার্জ করা হয়েছে এবং লেনদেন সফল হয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করা যায়। কোনো রিচার্জের পর ব্যালেন্স না বাড়লে আগের লেনদেনের তথ্য দেখে অভিযোগ জানানো সহজ হয়।

দৈনিক ও মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে খরচ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হয়। কোন মাসে বেশি ইউনিট ব্যবহার হয়েছে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে কি না, তা বোঝা যায়। এর ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।

এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেবায় বিল পরিশোধ, অভিযোগ দাখিল, নোটিশ দেখা এবং গ্রাহকসেবার তথ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ অফিসে না গিয়েও অনেক সাধারণ কাজ সম্পন্ন করা যায়।

অ্যাপে মিটারের তথ্য না দেখালে কী করবেন?

মোবাইল অ্যাপে মিটার যুক্ত করার পরও অনেক সময় ব্যালেন্স, ইউনিট বা রিচার্জের তথ্য দেখা যায় না। এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন—ভুল গ্রাহক নম্বর, ভুল মিটার নম্বর, অসম্পূর্ণ নিবন্ধন, সার্ভারের সমস্যা, ইন্টারনেট সংযোগের ত্রুটি অথবা মিটারের ডেটা অনলাইনে আপডেট না হওয়া।

প্রথমে বিলের কাগজ বা রিচার্জ রসিদ দেখে গ্রাহক নম্বর ও মিটার নম্বর সঠিকভাবে লিখেছেন কি না যাচাই করুন। এরপর অ্যাপ থেকে লগআউট করে আবার লগইন করুন। প্রয়োজনে অ্যাপ আপডেট করুন এবং ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করুন।

তথ্য না এলে একই অ্যাকাউন্ট অন্য কোনো ব্রাউজার বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল থেকে যাচাই করে দেখতে পারেন। তবুও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইন বা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে যোগাযোগ করুন। অভিযোগ করার সময় গ্রাহক নম্বর, মিটার নম্বর, রিচার্জের তারিখ এবং লেনদেনের রসিদ কাছে রাখুন।

অপরিচিত কোনো ব্যক্তি বা ফেসবুক পেজকে OTP, অ্যাপের পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিং PIN দেবেন না। বিদ্যুৎ মিটার মনিটর করার জন্য কোনো অজানা অ্যাপ ইনস্টল করার আগে সেটি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কি না যাচাই করুন।

স্মার্ট মিটার ও সাধারণ প্রিপেইড মিটারের মধ্যে পার্থক্য কী?

স্মার্ট মিটার এবং সাধারণ প্রিপেইড মিটারকে অনেক সময় একই ধরনের মনে করা হলেও প্রযুক্তিগতভাবে তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রিপেইড মিটারে আগে টাকা জমা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। মিটারের ব্যালেন্স থেকে ব্যবহার অনুযায়ী টাকা কেটে নেওয়া হয়। অনেক সাধারণ প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের পর পাওয়া টোকেন মিটারের কীপ্যাডে প্রবেশ করাতে হয়।

অন্যদিকে স্মার্ট মিটারে উন্নত যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি থাকতে পারে। মিটারের ধরন ও বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ব্যবহার, রিডিং বা অন্যান্য তথ্য দূর থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। তবে স্মার্ট মিটার থাকলেই সব তথ্য গ্রাহকের মোবাইলে দেখা যাবে এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সেই তথ্য গ্রাহকের অ্যাপ বা পোর্টালে দেখানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অর্থাৎ শুধু মিটারে ডিজিটাল ডিসপ্লে থাকলেই সেটি মোবাইল মনিটরিং সমর্থন করে না। মিটারটি অনলাইন ডেটা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কি না এবং বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান গ্রাহককে সেই সুবিধা দিচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

মিটার মনিটরিংয়ের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

বিদ্যুৎ মিটার মনিটরিংয়ের জন্য সব সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। Google Play Store-এ একই ধরনের নামে একাধিক অ্যাপ থাকতে পারে। তাই শুধু অ্যাপের নাম দেখে ইনস্টল না করে প্রকাশক, প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংক এবং অ্যাপের বিবরণ যাচাই করুন।

মিটার নম্বর ও গ্রাহক নম্বর ব্যক্তিগত সংযোগের তথ্য। এগুলো প্রয়োজন ছাড়া প্রকাশ্যে শেয়ার করবেন না। একইভাবে OTP, পাসওয়ার্ড, PIN বা ব্যাংকিং তথ্য কাউকে দেবেন না।

রিচার্জ করার সময় মিটার নম্বর বা গ্রাহক নম্বর দুইবার মিলিয়ে নিন। পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল রসিদ ও টোকেন সংরক্ষণ করুন। টাকা কেটে নেওয়া হলেও রিচার্জ সফল না হলে বারবার নতুন করে পেমেন্ট না করে প্রথম লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, অ্যাপে প্রদর্শিত তথ্যের আপডেট সময় এবং মিটারের প্রকৃত অবস্থার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, মিটার ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতিতে শুধু অ্যাপের নোটিফিকেশনের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: সব ধরনের বিদ্যুৎ মিটার কি মোবাইল দিয়ে মনিটর করা যায়?

উত্তর: না। সব মিটারের জন্য মোবাইল মনিটরিং সুবিধা নেই। মিটারটি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ডেটা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং গ্রাহকের জন্য সেই তথ্য দেখার সেবা চালু থাকতে হবে।

প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে কি মিটারের বর্তমান ব্যালেন্স দেখা যায়?

উত্তর: কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রিপেইড গ্রাহক পোর্টালে Remaining Balance দেখা যায়। তবে তথ্যটি সব সময় তাৎক্ষণিক নাও হতে পারে। একেবারে বর্তমান ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে মিটারের স্ক্রিনও পরীক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে কি প্রতিদিন কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে জানা যায়?

উত্তর: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পোর্টাল বা অ্যাপে Daily Consumption সুবিধা থাকলে দৈনিক ব্যবহারের হিসাব দেখা যায়। তবে সব প্রতিষ্ঠান বা সব মিটারে এই সুবিধা পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: মোবাইল দিয়ে কি বিদ্যুৎ মিটার অন-অফ করা যায়?

উত্তর: সাধারণ গ্রাহক অ্যাপ দিয়ে সব মিটার দূর থেকে অন-অফ করার সুবিধা থাকে না। কোনো মিটারে বিশেষ রিমোট ব্যবস্থাপনা থাকলেও তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রযুক্তি ও সেবার ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু অ্যাপে মিটার মনিটর করার সুবিধা আছে বলে দূর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

প্রশ্ন: প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স কমে গেলে কি মোবাইলে নোটিফিকেশন আসে?

উত্তর: কিছু অ্যাপ বা সিস্টেমে ব্যালেন্সসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সুবিধা থাকতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে স্বয়ংক্রিয় Low Balance Notification চালু আছে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অ্যাপের নোটিফিকেশন সেটিংস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সেবা যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: বিকাশ বা নগদ দিয়ে কি সব প্রতিষ্ঠানের মিটার রিচার্জ করা যায়?

উত্তর: বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় বিকাশ, নগদসহ একাধিক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস থাকতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন মাধ্যম চালু রয়েছে, তা পেমেন্টের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপে যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: টোকেন পাওয়ার পর মিটারে টাকা না এলে কী করব?

উত্তর: প্রথমে রিচার্জের SMS বা ডিজিটাল রসিদে মিটার নম্বর, টোকেন এবং লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন। কীপ্যাড মিটার হলে নির্দেশনা অনুযায়ী টোকেন প্রবেশ করান। এরপরও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইন বা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: স্মার্ট মিটার না থাকলে কি মোবাইল দিয়ে বিদ্যুৎ বিল দেখা যাবে?

উত্তর: অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব। পোস্টপেইড গ্রাহকরা বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের অনলাইন গ্রাহকসেবা পোর্টাল বা অ্যাপ থেকে বিল ও পরিশোধের তথ্য দেখতে পারেন। তবে মিটারের দৈনিক ব্যবহার বা রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়ার সুবিধা আলাদা বিষয়।

উপসংহার

মোবাইল ফোন দিয়ে বিদ্যুতের মিটার মনিটর করার সুবিধা এখন বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের জন্য সহজলভ্য হচ্ছে। DESCO, DPDC, NESCO, WZPDCL এবং পল্লী বিদ্যুৎ—প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডিজিটাল সেবা থাকলেও সুবিধা ও ব্যবহারপদ্ধতি এক নয়। কোথাও প্রিপেইড পোর্টাল থেকে ব্যালেন্স ও দৈনিক ব্যবহার দেখা যায়, কোথাও অ্যাপের মাধ্যমে বিল, পেমেন্ট ও গ্রাহকসেবা পাওয়া যায়।

তাই প্রথমে নিজের বিদ্যুৎ সংযোগ কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে তা নিশ্চিত করুন। এরপর সেই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েব পোর্টালে গ্রাহক নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে উপলভ্য তথ্য দেখুন। নিয়মিত ব্যালেন্স ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, সময়মতো রিচার্জ করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত