দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অবস্থানের মধ্যে সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল
বিশ্ব · 2026-11-02T07:11:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে পাহাড় ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ধ্বংসের কাজও চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এসব এলাকায় লেবাননের ভূখণ্ডে সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছে ইসরাইলি বাহিনী।
মধ্যাঞ্চলে আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহরের আশপাশে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। মারুন আল-রাস শহরটি সীমান্তের ওপারে ইসরাইলের আভিভিম বসতির দিকে মুখ করে অবস্থিত।
অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিমাঞ্চলে নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব এলাকায়ও নতুন সড়ক নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে।
গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর নতুন সড়ক নির্মাণের বিষয়টি সামনে এল।
তবে বৈঠক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। দুই পক্ষের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও দেওয়া হয়নি। আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হলেও লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।
এর আগে জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে ওই চুক্তির পরও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন সড়ক নির্মাণের এই তৎপরতা দেশটির ভূখণ্ডে ইসরাইলি সামরিক উপস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।