শ্রীমঙ্গলের সময়

জুমার নামাজের নিয়ত আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

ধর্ম · 2026-11-06T02:44:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

জুমার নামাজের মূল ফরজ হলো ইমামের সঙ্গে জামাতে আদায় করা দুই রাকাত নামাজ। এর নিয়ত অন্তরে করাই যথেষ্ট; আরবি বাক্য মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়। এই লেখায় জুমার ফরজ, আগে ও পরের সুন্নত নামাজের নিয়তের নমুনা, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং নামাজের নিয়ম ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন মসজিদে মসজিদে মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। ইসলামে জুমার নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, জুমার নামাজের নিয়ত কীভাবে করতে হয়, আরবিতে নিয়ত কী, বাংলায় এর উচ্চারণ ও অর্থ কী এবং ইমামের পেছনে দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার সময় কীভাবে নিয়ত করতে হবে। আবার জুমার আগে চার রাকাত সুন্নত, ফরজের পর চার রাকাত সুন্নত এবং অতিরিক্ত নফল নামাজের নিয়ত নিয়েও অনেকে জানতে চান।

জুমার নামাজের নিয়ত নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করলে “জুমার নামাজের নিয়ত বাংলায়”, “আরবিতে জুমার নামাজের নিয়ত”, “দুই রাকাত জুমার নামাজের নিয়ত”, “জুমার নামাজের নিয়ত ও নিয়ম”, “কাবলাল জুমার নিয়ত” এবং “বাদাল জুমার নিয়ত”—এ ধরনের অনেক প্রশ্ন দেখা যায়। এসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে জুমার নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি কমে। বিশেষ করে মনে রাখা প্রয়োজন, নামাজের নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্প; নির্দিষ্ট কোনো আরবি বাক্য মুখে উচ্চারণ করাই নিয়তের শর্ত নয়।

জুমার নামাজের নিয়ত কী?

নিয়ত অর্থ হলো কোনো কাজ করার ইচ্ছা বা সংকল্প করা। নামাজের ক্ষেত্রে কোন নামাজ আদায় করা হচ্ছে, তা অন্তরে স্থির করাকে নিয়ত বলা হয়। কেউ যখন জুমার জামাতে দাঁড়িয়ে মনে মনে স্থির করেন যে তিনি ইমামের অনুসরণে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করছেন, তখন তাঁর নিয়ত হয়ে যায়।

নিয়ত করার জন্য আরবি ভাষা জানা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ বাংলায় মনে মনে নিয়ত করলেও তা যথেষ্ট। আবার কেউ আরবি বাক্য মুখে উচ্চারণ না করেও শুধু অন্তরে নামাজের সংকল্প করে নামাজ শুরু করতে পারেন। তাই আরবি নিয়ত মুখস্থ না থাকলে জুমার নামাজ আদায়ে কোনো বাধা নেই।

ইসলামি ফিকহের আলোচনায় নিয়তের স্থান অন্তর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা প্রয়োজন কি না—ইসলামি ব্যাখ্যা থেকে বিস্তারিত জানা যায়।

জুমার নামাজের আরবি নিয়ত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

বাংলাদেশে প্রচলিতভাবে অনেক মুসল্লি জুমার নামাজের নিয়ত আরবি ভাষায় মুখস্থ করেন। তাঁদের সুবিধার জন্য নিচে দুই রাকাত ফরজ নামাজের একটি প্রচলিত আরবি নমুনা, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো। এটি নিয়ত প্রকাশের একটি শিক্ষামূলক বাক্য; রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক নিয়তের বাক্য নয়।

জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত

আরবি নিয়ত:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ فَرْضَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ مُقْتَدِيًا بِهَذَا الْإِمَامِ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া ফারদাল জুমুআতি রাকআতাইনি মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি লিল্লাহি তা'আলা।

বাংলা অর্থ:

আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য এই ইমামের অনুসরণে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম।

এখানে “মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি” কথাটির অর্থ হলো এই ইমামের অনুসরণে। অর্থাৎ মুসল্লি যখন ইমামের পেছনে জুমার জামাতে নামাজ আদায় করেন, তখন এই বাক্য দিয়ে নিজের অনুসরণের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

সহজ বাংলায় মনে মনে নিয়ত: “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইমামের পেছনে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি।”

এই বাংলা বাক্যটি মনে মনে স্থির করলেও নিয়ত হয়ে যায়। আরবি বাক্যটি মুখে বলা আবশ্যক নয়।

জুমার আগে চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত

হানাফি মাজহাব অনুসারে জুমার ফরজ নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়। এই নামাজের নিয়ত প্রকাশের একটি প্রচলিত আরবি নমুনা নিচে দেওয়া হলো।

আরবি নিয়ত:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া সুন্নাতাল জুমুআতি আরবা'আ রাকআতিন লিল্লাহি তা'আলা।

বাংলা অর্থ:

আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য জুমার চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম।

জুমার ফরজ নামাজের পর চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত

হানাফি মাজহাবের প্রচলিত নিয়মে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের পর চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়। এ নামাজের নিয়ত প্রকাশের নমুনা হলো—

আরবি নিয়ত:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةَ مَا بَعْدَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া সুন্নাতা মা বা'দাল জুমুআতি আরবা'আ রাকআতিন লিল্লাহি তা'আলা।

বাংলা অর্থ:

আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য জুমার নামাজের পর চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম।

উল্লেখিত আরবি বাক্যগুলো নিয়ত বোঝানোর জন্য প্রচলিত নমুনা। এগুলোর কোনো একটিকে মুখে পড়া বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয়। নামাজের ধরন ও উদ্দেশ্য অন্তরে স্থির থাকাই মূল বিষয়।

কাবলাল জুমার নামাজের নিয়ত কী?

“কাবলাল জুমা” বলতে জুমার ফরজ নামাজের আগে আদায় করা নামাজকে বোঝাতে স্থানীয়ভাবে এই পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে হানাফি মাজহাব অনুসরণকারী অনেক মুসল্লি জুমার আগে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করেন। এ নামাজের নিয়ত সাধারণভাবে জুমার আগের চার রাকাত সুন্নত নামাজের নিয়ত হিসেবেই করা যায়।

আরবি নিয়তের নমুনা:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া সুন্নাতাল জুমুআতি আরবা'আ রাকআতিন লিল্লাহি তা'আলা।

অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জুমার চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম।

তবে জুমার আগে নির্দিষ্ট চার রাকাত সুন্নত নামাজের বিধান নিয়ে বিভিন্ন ফিকহি মাজহাবের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। হানাফি মাজহাবে চার রাকাত আগে ও চার রাকাত পরে সুন্নত আদায়ের প্রচলন রয়েছে।

বাদাল জুমার নামাজের নিয়ত কী?

“বাদাল জুমা” শব্দটি বাংলাদেশে কিছু জায়গায় জুমার নামাজের পর আদায় করা অতিরিক্ত নামাজ বোঝাতে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এই শব্দের ব্যবহার ও অর্থ সব জায়গায় একরকম নয়। তাই একে জুমার ফরজের বিকল্প বা জুমার নামাজ ছুটে গেলে আদায় করার আলাদা ফরজ নামাজ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

জুমার ফরজ নামাজের পর হানাফি পদ্ধতিতে চার রাকাত সুন্নত এবং এরপর অতিরিক্ত দুই রাকাত সুন্নত বা নফল আদায়ের প্রচলন রয়েছে। অতিরিক্ত নামাজের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সুন্নত বা নফল নামাজের নিয়ত করা যায়।

চার রাকাত অতিরিক্ত সুন্নত নামাজের নিয়তের একটি নমুনা:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ سُنَّةً أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لِلّٰهِ تَعَالَى

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া সুন্নাতান আরবা'আ রাকআতিন লিল্লাহি তা'আলা।

বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—কেউ যদি জুমার জামাত না পান বা জুমার নামাজ ছুটে যায়, তাহলে এই চার রাকাতকে “বাদাল জুমা” ভেবে আদায় করবেন না। জুমার জামাত না পেলে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়।

জুমার নামাজ কয় রাকাত এবং কী কী?

জুমার নামাজের মূল ফরজ অংশ হলো দুই রাকাত। এটি জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের পরিবর্তে জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয়। তবে এর আগে ও পরে সুন্নত নামাজ আদায়ের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশে হানাফি মাজহাব অনুসরণকারী মুসল্লিদের মধ্যে সাধারণত নিচের নিয়মটি বেশি প্রচলিত।

নামাজের ধরন

রাকাত

জুমার আগে সুন্নত

৪

জুমার ফরজ

২

ফরজের পর সুন্নত

৪

এরপর অতিরিক্ত সুন্নত

২

এ হিসাবে প্রচলিতভাবে মোট ১২ রাকাত আদায় করা হয়। কেউ কেউ এর পরে আরও দুই রাকাত নফল নামাজও পড়েন। তবে মনে রাখতে হবে, সব রাকাতের বিধান এক নয়। জুমার মূল ফরজ নামাজ দুই রাকাত; বাকি নামাজগুলো সুন্নত বা নফল হিসেবে আদায় করা হয়। হানাফি ফিকহের বিস্তারিত ব্যাখ্যায় ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত অনুযায়ী ফরজের আগে চার ও পরে চার রাকাত সুন্নতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ার নিয়ম

জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে ইমামের নেতৃত্বে আদায় করতে হয়। সাধারণভাবে নামাজের নিয়ম নিচের মতো—

প্রথমে মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করে সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তাহিয়্যাতুল মসজিদ এবং সুন্নত নামাজ আদায় করবেন। এরপর ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসলে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবেন। খুতবা শেষ হলে ইকামত দেওয়া হবে এবং ইমাম জামাত শুরু করবেন।

ইমাম তাকবিরে তাহরিমা বললে মুসল্লিরাও তাঁর অনুসরণে তাকবির বলে নামাজ শুরু করবেন। এরপর ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে নীরবে নামাজ আদায় করবেন। ইমাম রুকু, সিজদা ও অন্যান্য কাজ করলে মুসল্লিরাও তাঁর অনুসরণ করবেন। দুই রাকাত শেষে ইমাম সালাম ফেরালে মুসল্লিরাও সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জুমার ফরজ নামাজ একা দুই রাকাত পড়ে আদায় করার বিষয় নয়; এটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয়। তাই ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় তাঁর আগে কোনো কাজ করা উচিত নয়।

ইমামের পেছনে জুমার নামাজের নিয়ত কীভাবে করবেন?

ইমামের পেছনে জুমার নামাজ আদায়ের সময় মনে মনে স্থির করতে হবে যে আপনি ইমামের অনুসরণে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে আরবি নিয়তের নমুনায় “মুকতাদিয়ান বিহাযাল ইমামি” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ “এই ইমামের অনুসরণে”।

তবে আরবি বাক্য মুখস্থ না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। বাংলায় মনে মনে “আমি ইমামের পেছনে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি”—এভাবে সংকল্প করলেই নিয়ত হয়ে যায়।

ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লির দায়িত্ব হলো ইমামের অনুসরণ করা। ইমাম তাকবির বলার আগে তাকবির বলা, রুকু বা সিজদায় ইমামের আগে চলে যাওয়া কিংবা ইমামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নামাজের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

জুমার নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়?

জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজে ইমাম সাধারণত কিরাত উচ্চস্বরে পড়েন। মুসল্লিরা ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর কিরাত শোনেন এবং নামাজের অন্যান্য কাজ অনুসরণ করেন। কোন সূরা পড়তে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট একটি সূরা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার নামাজে কখনো সূরা আল-জুমুআহ ও সূরা আল-মুনাফিকুন পড়েছেন। আবার অন্য বর্ণনায় সূরা আল-আ'লা ও সূরা আল-গাশিয়াহ পড়ার কথাও পাওয়া যায়। তাই ইমাম এসব সূরা বা অন্য উপযুক্ত সূরা দিয়ে নামাজ পড়াতে পারেন।

জুমার নামাজ কার ওপর ফরজ?

জুমার নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর একইভাবে ফরজ নয়। ইসলামী বিধান অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুকিম বা নিজ এলাকায় অবস্থানকারী স্বাধীন মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে অসুস্থতা, সফর বা শরিয়তসম্মত ওজরের কারণে কারও ওপর জুমায় উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা না-ও থাকতে পারে।

সাধারণভাবে যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়, তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • নারী।

  • নাবালক শিশু।

  • শরিয়তসম্মত সফরে থাকা মুসাফির।

  • এমন অসুস্থ ব্যক্তি, যার পক্ষে মসজিদে যাওয়া কষ্টকর বা ক্ষতিকর।

  • যেসব ব্যক্তি গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে জামাতে উপস্থিত হতে পারেন না।

তবে যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়, তারাও চাইলে শর্ত পূরণ করে জুমার জামাতে অংশ নিতে পারেন। এ বিষয়ে মাজহাবভেদে কিছু বিস্তারিত বিধান রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-জুমুআহর ৯ নম্বর আয়াতে শুক্রবার নামাজের আহ্বান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে অগ্রসর হতে এবং বেচাকেনা ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়াতটিতে জুমার নামাজের গুরুত্ব এবং দুনিয়াবি কাজের চেয়ে আল্লাহর আহ্বানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা রয়েছে। সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৯।

শুক্রবারের নামাজের আগে গোসল করা, পরিচ্ছন্ন থাকা, সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মসজিদে আগে যাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সহিহ বুখারির ৮৮১ নম্বর হাদিসে শুক্রবার গোসল, দাঁত পরিষ্কার এবং সুগন্ধি ব্যবহারের কথা এসেছে।

জুমার খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহিহ মুসলিমের ৮৫১ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কেউ পাশের ব্যক্তিকে চুপ থাকতে বললেও তা অনর্থক কথা হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ খুতবার সময় কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

শুক্রবারের দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও করণীয়

জুমার নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মসজিদে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পোশাক পরা এবং দাঁত পরিষ্কার রাখাও উত্তম আমল।

মসজিদে গিয়ে খুতবা শুরু হওয়ার আগে সুযোগ অনুযায়ী সুন্নত বা নফল নামাজ পড়া যায়। তবে খুতবা শুরু হয়ে গেলে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা উচিত। খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, মোবাইল ফোনে কথা বলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

জুমার নামাজ না পড়লে কী করতে হবে?

কোনো ব্যক্তি অসুস্থতা, সফর বা গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে জুমার জামাতে অংশ নিতে না পারলে তাঁর জন্য জোহরের নামাজ আদায়ের বিধান রয়েছে। একইভাবে কেউ জুমার জামাত না পেলে জুমার দুই রাকাত ফরজের পরিবর্তে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করবেন।

জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করা গুরুতর বিষয়। আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়িসহ একাধিক হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অবহেলা করে পরপর তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, তার অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়—এ মর্মে সতর্কবার্তা এসেছে। এই সতর্কবাণী বৈধ ওজরে জুমা না পড়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

জুমার নামাজের নিয়ত নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

জুমার নামাজের নিয়ত কি আরবিতে করতে হয়?

না। জুমার নামাজের নিয়ত আরবিতে করা বাধ্যতামূলক নয়। নিয়ত অন্তরের বিষয়। বাংলায় মনে মনে নামাজের সংকল্প করলেও নিয়ত হয়ে যায়।

জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত কী?

মনে মনে স্থির করবেন, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইমামের পেছনে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি।” চাইলে প্রচলিত আরবি নিয়তের নমুনাও শিখে রাখতে পারেন।

জুমার নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তে হয় কি?

হানাফি মাজহাব অনুসারে জুমার ফরজ নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নত আদায়ের প্রচলন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অন্য মাজহাবের ফিকহি মতামতে পার্থক্য আছে।

জুমার নামাজ কয় রাকাত ফরজ?

জুমার নামাজের ফরজ হলো দুই রাকাত। এটি ইমামের সঙ্গে জামাতে আদায় করতে হয়।

জুমার নামাজ ছুটে গেলে কি দুই রাকাত পড়তে হবে?

জুমার জামাত না পেলে জুমার দুই রাকাত ফরজের পরিবর্তে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। শুধু জুমার নিয়ত করে একা দুই রাকাত পড়লে জুমার ফরজ আদায় হয় না।

নারীদের কি জুমার নামাজ ফরজ?

নারীদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়। তবে তারা জুমার জামাতে অংশ নিলে তা আদায় করতে পারেন। জুমার জামাতে অংশ না নিলে জোহরের নামাজ আদায় করবেন।

জুমার খুতবা চলাকালে কথা বলা যাবে কি?

খুতবা চলাকালে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি কাউকে চুপ থাকতে বলার ক্ষেত্রেও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। তাই খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত