শ্রীমঙ্গলের সময়

ফজরের পর মাত্র কয়েক মিনিটে যে আমলগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন দিন

ধর্ম · 2026-11-02T01:36:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ফজরের নামাজের পর তিনবার ইস্তিগফার, তাসবিহ-তাহমিদ-তাকবির, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার এবং তিন কুল পড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল করা যায়। অল্প সময়ে এসব জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস দিনের শুরুতে আল্লাহর স্মরণকে জীবনের অংশ করে তুলতে সাহায্য করে।

দিনের শুরুটা যদি আল্লাহর স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে হয়, তাহলে তা একজন মুমিনের জন্য হতে পারে সুন্দর একটি অভ্যাস। ফজরের নামাজ আদায়ের পর অনেকেই কাজের ব্যস্ততায় দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। আবার কেউ নামাজ শেষ করেই মোবাইল ফোনে সময় কাটাতে শুরু করেন। অথচ ফজরের পর অল্প কয়েক মিনিট সময় নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল করা যায়, যেগুলোর ভিত্তি রয়েছে কোরআন ও সহিহ হাদিসে।

ইসলামে ফজরের নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। রাতের ঘুম থেকে উঠে দিনের প্রথম ফরজ নামাজ আদায়ের পর আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দিনের কল্যাণ কামনা করা একজন মুসলমানের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব আমল করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। আন্তরিকতা ও নিয়মিত অভ্যাসই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

ফজরের নামাজের পর প্রথমেই তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়তে পারেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। এরপর এই দোয়াটি পড়া সুন্নাহ:

আরবি:

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

বাংলা উচ্চারণ:

আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।

আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।

বাংলা অর্থ:

আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর তিনবার ইস্তিগফার করতেন এবং এরপর এই দোয়া পড়তেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯১)

এরপর ফরজ নামাজের পরের গুরুত্বপূর্ণ জিকির হিসেবে তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পড়তে পারেন। প্রতিটি ৩৩ বার করে পড়বেন।

আরবি:

سُبْحَانَ اللَّهِ

الْحَمْدُ لِلَّهِ

اللَّهُ أَكْبَرُ

বাংলা উচ্চারণ:

সুবহানাল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ।

আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ:

সুবহানাল্লাহ অর্থ—আল্লাহ সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে পবিত্র।

আলহামদুলিল্লাহ অর্থ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আল্লাহু আকবার অর্থ—আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

এরপর একবার পড়বেন:

আরবি:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা উচ্চারণ:

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

বাংলা অর্থ:

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, এভাবে ৩৩ বার তাসবিহ, ৩৩ বার তাহমিদ ও ৩৩ বার তাকবির পড়ে এই তাওহিদের বাক্য দিয়ে ১০০ পূর্ণ করলে গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৭)

এরপর সকালে পড়ার জন্য সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়তে পারেন। এটি ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এটি পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৬)

আরবি:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সানাতু। আবুউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিযামবি। ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা।

বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আছি। আমি যা করেছি, তার অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি এবং নিজের গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।

সকালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়া। এই তিনটি সুরা সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার পড়ার নির্দেশনা হাদিসে এসেছে। এগুলো আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা ও তাঁর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০৮২)

এ ছাড়া ফজরের পর কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ পড়তেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কয়েকটি আয়াত পড়ে তার অর্থ বোঝার চেষ্টা করাও উপকারী অভ্যাস। এরপর নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, এখানে উল্লেখিত সব আমল একসঙ্গে শেষ করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। সময় কম থাকলে ফরজ নামাজের পরের মাসনুন জিকিরগুলো দিয়ে শুরু করুন। এরপর ধীরে ধীরে সকালের অন্যান্য জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোনো আমলের নির্দিষ্ট সময় বা সংখ্যা হাদিসে বর্ণিত থাকলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করুন; আর যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, সেখানে নিজের সুবিধামতো আমল করুন।

দিনের শুরুতে কয়েক মিনিট আল্লাহর স্মরণে ব্যয় করা আপনার দৈনন্দিন জীবনে ইবাদতের একটি সুন্দর অভ্যাস তৈরি করতে পারে। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে এই সময়টুকু পুরোপুরি হারিয়ে না ফেলে, প্রতিদিন অল্প অল্প করে আমল করার চেষ্টা করুন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত