মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সারাদেশ · 2026-11-05T16:23:39.000000Z · জেলা প্রতিনিধি
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের আওতায় দুটি আধুনিক জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্য রাখার ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৪ লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
প্রকল্পের আওতায় বন্দরে দুটি আধুনিক জেটি, কনটেইনার ইয়ার্ড, বিপজ্জনক পণ্যবাহী কনটেইনার রাখার ইয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা চার লাখ টিইইউতে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দীর্ঘ ও ৪০ মিটার প্রশস্ত জেটি নির্মাণ করা হবে। সেখানে একসঙ্গে ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার দুটি জাহাজ অথবা ৫০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার একটি জাহাজ ভেড়ানো যাবে।
এ ছাড়া ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য শোর-টু-শিপ ক্রেনসহ ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে কনটেইনার সংরক্ষণের জায়গা বাড়ার পাশাপাশি পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয়ও কমবে।
চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি)। গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ২৫ মার্চ চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।