শ্রীমঙ্গলের সময়

জরিমানা দিয়েও বন্ধ হয়নি অবৈধ গ্যাস বিক্রি, মির্জাপুরে ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

সারাদেশ · 2026-10-22T18:47:13.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পরও মা সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে কাভার্ড ভ্যানে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১২ অক্টোবর অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অপরাধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসে অবস্থিত মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক ইব্রাহিম মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানা দেওয়ার পরদিন ১৩ অক্টোবর থেকেই ফের প্রকাশ্যে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। দিনের বেলায়ও ফিলিং স্টেশন থেকে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস ভরতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তৌহিদ রেজা। এ সময় অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে স্টেশনটির মালিক ইব্রাহিম মিয়াকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানার পরও অবৈধভাবে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তাদের দাবি, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে সারি সারি গ্যাস সিলিন্ডার রেখে সেখানে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কাভার্ড ভ্যানে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন বা মজুত করা হলে দুর্ঘটনার সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তবে কাভার্ড ভ্যানে ঠিক কতটি সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাসের অনুমোদনহীন বিক্রি শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, একই সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
তাদের দাবি, অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্সের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হোক।
তারা আরও বলেন, একবার জরিমানা করার পর একই ধরনের কার্যক্রম পুনরায় চলতে থাকলে শুধু জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। অবৈধ গ্যাস বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে মা সিএনজি স্টেশনের মালিক ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত