জরিমানা আর নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই বোমা গাড়িতে দেদারসে চলছে অবৈধ গ্যাস বিক্রির রমরমা বাণিজ্য
সারাদেশ · 2026-10-22T19:57:09.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
সড়ক পরিবহন আইন, বিস্ফোরক আইন ও গ্যাস সিলিন্ডার-সংক্রান্ত বিধিমালাসহ প্রচলিত আইন ও নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাভার, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রির কার্যক্রম চলছে। বিপজ্জনক এই কার্যক্রমকে স্থানীয়ভাবে চলন্ত বোমা হিসেবে উল্লেখ করছেন অনেকে। বিভিন্ন স্টেশনে জরিমানা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ গ্যাস বিক্রি।
এরই মধ্যে গাজীপুরে ছয়টি স্টেশন এবং সাভারে দুটি স্টেশনে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মা সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জরিমানার পরও সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে একইভাবে গ্যাস বিক্রি চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিক মুনাফার কারণে তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যার পর থেকে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রি করা হয়। তবে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সূত্রাপুর এলাকার মা সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মা সিএনজি স্টেশনসহ হাই প্রেসার, নিটোল ও ইন্ট্রাকো সিএনজি স্টেশনে দিনের বেলাতেও কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব স্টেশনের মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সূত্রাপুর এলাকার মা সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে সবচেয়ে বেশি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস বিক্রি করা হয়। স্টেশনটির মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টাঙ্গাইল অংশে মাত্র একটি সিএনজি স্টেশনকে লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও অন্য স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, জরিমানার পরও স্টেশনগুলোতে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট সিএনজি স্টেশন থেকে কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস কিনে তা চড়া দামে বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি করে। সাধারণ যানবাহনের তুলনায় কাভার্ড ভ্যানে প্রতি লিটার গ্যাস ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এসব গাড়িতে লাখ টাকার বেশি মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয় বলে দাবি তাঁদের।
তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়িতে অতিরিক্ত মুনাফা হয় ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে সরকারকে কম গ্যাস বিল দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে তিতাস গ্যাস, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে, এভাবে অনুমোদনহীন পদ্ধতিতে গ্যাস বিক্রি ও পরিবহনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাসের অবৈধ বিক্রি ও ব্যবহার শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। জরিমানা করার পরও একই কার্যক্রম চলতে থাকলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তাঁদের দাবি, অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যান জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মা সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মা সিএনজি স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”