‘সিআইডি’ ও ‘আহট’-এর স্রষ্টা বিপি সিং ৭৭ বছর বয়সে চলে গেলেন
বিনোদন · 2026-10-28T05:13:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতীয় টেলিভিশনে অপরাধ ও রহস্যনির্ভর অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে যাঁর নাম বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়, সেই নির্মাতা ব্রিজেন্দ্র পাল সিং আর নেই। ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের স্রষ্টা বিপি সিং মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক পণ্ডিত। তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় টেলিভিশন অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
বিপি সিংয়ের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন অশোক পণ্ডিত। শোকবার্তায় তিনি প্রয়াত নির্মাতাকে একজন প্রতিভাবান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নির্মাতা, ভালো মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁর নির্মিত অপরাধ ও রহস্যনির্ভর অনুষ্ঠান বহু দর্শককে আকৃষ্ট করেছে উল্লেখ করে পণ্ডিত বলেন, বিপি সিংয়ের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
‘সিআইডি’ দিয়ে আলাদা পরিচিতি: ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় অপরাধ তদন্তমূলক ধারাবাহিক ‘সিআইডি’ বিপি সিংয়ের সবচেয়ে পরিচিত কাজগুলোর একটি। ১৯৯৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকে মুম্বাইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রহস্যজনক ঘটনা ও অপরাধের তদন্ত করতে দেখা যেত। অপরাধের সূত্র খুঁজে বের করা, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জটিল ঘটনার রহস্য উন্মোচনের গল্প দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে প্রচারিত এই ধারাবাহিক ভারতীয় টেলিভিশনের পরিচিত অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। এর চরিত্র, তদন্তের ধরন এবং নাটকীয় উপস্থাপনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একাধিক প্রজন্মের দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখে বড় হয়েছেন। অপরাধভিত্তিক গল্পকে নিয়মিত টেলিভিশন বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ ধারায় পরিণত করার ক্ষেত্রে ‘সিআইডি’র ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
এই ধারাবাহিকের প্রযোজনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছিলেন বিপি সিং। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শমশের সিং চিত্রোলের চরিত্রে তাঁকে দেখা গেছে। অর্থাৎ, যে ধারাবাহিকের নির্মাণের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে আছে, সেই পর্দাতেও তিনি নিজে অভিনয় করে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছিলেন।
ভৌতিক ধারাবাহিক ‘আহট’-ও ছিল জনপ্রিয়: অপরাধ তদন্তের গল্পের পাশাপাশি ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত ঘটনানির্ভর অনুষ্ঠান নির্মাণেও দক্ষতা দেখিয়েছিলেন বিপি সিং। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ‘আহট’। ১৯৯৫ সালে প্রচার শুরু হওয়া এই ভৌতিক ধারাবাহিকটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত সম্প্রচারিত হয়। প্রায় দুই দশক ধরে চলা অনুষ্ঠানটি রহস্য ও ভৌতিক গল্পের দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিল।
‘আহট’-এ ভয়, অজানা ঘটনা এবং অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাহিনি তুলে ধরা হতো। অন্যদিকে, ‘সিআইডি’তে গুরুত্ব পেত অপরাধের তদন্ত ও রহস্যের সমাধান। ভিন্ন দুই ধরনের গল্পের অনুষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে বিপি সিং ভারতীয় টেলিভিশনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
টেলিভিশন নির্মাণে দীর্ঘ পথচলা: ব্রিজেন্দ্র পাল সিং নামের এই নির্মাতা বিপি সিং হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। টেলিভিশনে তাঁর কাজের বড় অংশজুড়ে ছিল অপরাধ, রহস্য, রোমাঞ্চ ও ভৌতিক কাহিনি। দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার মতো গল্প নির্বাচন এবং সেগুলোকে পর্দায় উপস্থাপনের ধরন তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়।
তিনি শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন না; ভারতের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এফটিআইআই) সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ফলে টেলিভিশন বিনোদনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
বিপি সিংয়ের নির্মিত অনুষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে। ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’—দুটিই এমন অনুষ্ঠান, যেগুলোর সঙ্গে বহু দর্শকের ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধের রহস্য উন্মোচন কিংবা ভৌতিক ঘটনার গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও বিনোদন অঙ্গনের ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করছেন। অশোক পণ্ডিতসহ তাঁর সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিরা বিপি সিংয়ের কাজ ও ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেছেন। তাঁর নির্মিত অনুষ্ঠানগুলোর জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবের কারণে ভারতীয় টেলিভিশনে তাঁর অবদান সহজে বিস্মৃত হওয়ার নয়।
৭৭ বছর বয়সে বিপি সিংয়ের মৃত্যুতে ভারতীয় টেলিভিশন হারাল একজন পরিচিত নির্মাতাকে। তাঁর সৃষ্ট ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’ দর্শকদের স্মৃতিতে যেমন জায়গা করে নিয়েছে, তেমনি অপরাধ ও রহস্যনির্ভর অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁর কাজ দীর্ঘদিন আলোচিত থাকবে।
তথ্যসূত্র: নিউজ৯, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস,