ভোট গণনায় এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল, বিরোধী জোটের সামনে কঠিন সমীকরণ
বিশ্ব · 2026-10-28T05:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। ২১ লাখের বেশি ভোট গণনার পর দলটি ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বৈধ ভোট পেয়েছে। তবে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি এবং আরব-নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। ভোট গণনা চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফল এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রাথমিক গণনায় লিকুদ পার্টি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট। আরব-নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রাথমিক এই ফলাফলে লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও শুধু দলীয় ভোটের হার দিয়ে পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্ট নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার অন্তত ৬১টি আসন।
সরকার গঠনে জোটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ: নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে হয়। এ কারণে লিকুদ পার্টি প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আসন পাবে কি না, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফল ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর।
অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সরকার গঠনের সম্ভাবনা ধরে রাখতে চাইবে। তবে তাদের ক্ষেত্রেও অন্যান্য দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভোটের হার ও সম্ভাব্য আসনসংখ্যাও নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ভোটের হিসাব এখনো পরিবর্তন হতে পারে: ২১ লাখের বেশি ভোট গণনা হলেও এটি চূড়ান্ত ফল নয়। বাকি ভোট গণনা শেষ হলে দলগুলোর ভোটের হার ও আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা দলগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী গণনার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। উচ্চ ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও কোন রাজনৈতিক জোট সরকার গঠন করবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ফল এবং দলগুলোর মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। ফলে আপাতত লিকুদ পার্টি এগিয়ে থাকলেও ইসরায়েলের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নির্ভর করছে চূড়ান্ত আসনবণ্টন ও জোটের সমীকরণের ওপর।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা