কৃষক কার্ড থাকলেই মোবাইলে পৌঁছাবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা
জাতীয় · 2026-11-02T06:01:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক এসএমএস পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে বৃষ্টি, ঝড়সহ আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে আগেই জানতে পারবেন কৃষকেরা। ফসলের পরিচর্যা, সেচ, সার প্রয়োগ ও ফসল কাটার পরিকল্পনা করতে এই তথ্য কাজে আসবে।
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর কৃষকদের কাছে এসএমএস পাঠানো হবে। আর দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক বার্তা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বৃষ্টি, ঝড়সহ আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে আগেভাগে জানতে পারবেন কৃষকেরা।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এ সেবা যুক্ত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিসের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, কৃষিকাজে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি কমানো এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে কৃষকদের সহায়তা করা।
কৃষি খাতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কখন বৃষ্টি হতে পারে, কখন জমিতে সেচ দেওয়া প্রয়োজন কিংবা কখন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা উচিত—এসব সিদ্ধান্তে আবহাওয়ার তথ্য কাজে লাগে। ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে কৃষকেরা আগেই ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একইভাবে ঝড়ের আশঙ্কা থাকলে ফসল ও কৃষি অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ, কৃষিবিমা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসসহ ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার কাজ চলছে। এ জন্য দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ।
গত ১ অক্টোবর ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১৪৭ জন কৃষি উপকরণ সহায়তার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক্-পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২টি কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ২০ হাজার ৪৮০ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে প্রত্যেককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপরিচালক ও কর্মসূচির উপপরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসিন বাসসকে বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরি এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
কৃষিসচিব মো. সেলিম খান বলেন, স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। সময়মতো পূর্বাভাস পেলে কৃষকেরা ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লকের কৃষকদের এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: বাসস