ডেঙ্গু রোগীর জন্য ডাবের পানি ও মাল্টা কি বাধ্যতামূলক?
লাইফস্টাইল · 2026-10-30T03:55:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ডেঙ্গু রোগীর দ্রুত সুস্থতার জন্য ডাবের পানি, মাল্টা বা কমলা খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এসব ফলের পরিবর্তে কম খরচে পাওয়া যায় এমন মৌসুমি ফল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যায়। তবে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করতে ডাবের পানি, মাল্টা বা কমলা খাওয়ানো বাধ্যতামূলক—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। এসব ফল পুষ্টিকর হলেও ডেঙ্গু রোগীর সুস্থতার জন্য এগুলো অপরিহার্য নয়। বরং সামর্থ্য অনুযায়ী সহজলভ্য খাবার দিয়েও রোগীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের চিকিৎসা নির্দেশনায় পানিশূন্যতা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে পানির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস, স্যুপ, ডাবের পানি ও অন্যান্য সহজলভ্য তরল গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ ডাবের পানি একটি বিকল্প, বাধ্যতামূলক কোনো খাবার নয়।
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। তবে পটাশিয়াম পেতে শুধু ডাবের পানির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। কলাসহ বিভিন্ন সহজলভ্য খাবার থেকেও পটাশিয়াম পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন (ওআরএস) এক নয়। শরীরে পানিশূন্যতা ও লবণের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস ব্যবহার করতে হবে।
একইভাবে ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য মাল্টা বা কমলা কিনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পেয়ারা, পেঁপে ও আমড়ার মতো দেশীয় ও মৌসুমি ফল থেকেও ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তাই রোগীর আর্থিক সামর্থ্য ও খাবারের রুচি বিবেচনা করে ফল নির্বাচন করা যেতে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেই বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি খেলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায় কিংবা প্লেটলেট বেড়ে যায়—এমন ধারণার পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাও ঠিক নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণে পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
কম খরচে ডেঙ্গু রোগীর খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে ভাত, নরম খিচুড়ি, ডাল, ডিম, মাছ ও স্যুপ। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী মৌসুমি ফল দেওয়া যায়। রোগীর বমি বমি ভাব বা ক্ষুধামন্দা থাকলে একবারে বেশি খাবার না দিয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়ানো যেতে পারে।
তরল গ্রহণের পরিমাণও সবার জন্য এক নয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং ডেঙ্গুর পর্যায় অনুযায়ী তরলের চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায়ও তরলের পরিমাণ নির্ধারণে বয়স ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে কিডনি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত তরল গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে খাবারের পাশাপাশি বিপৎসংকেতের দিকেও নজর রাখতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, শ্বাসকষ্ট অথবা প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। শুধু খাবার বা পানীয়ের ওপর নির্ভর করে এসব লক্ষণের চিকিৎসা করা যাবে না।
সব মিলিয়ে, ডেঙ্গু রোগীর সুস্থতার জন্য দামি ফল কেনার চেয়ে সুষম ও সহজপাচ্য খাবার, প্রয়োজন অনুযায়ী তরল গ্রহণ, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডাবের পানি, মাল্টা বা কমলা না থাকলেও বিকল্প খাবারের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।