খালিয়াজুরীতে আওয়ামী চেয়ারম্যান ‘রামরাজত্বে বিতর্কিত,একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার
সারাদেশ · 2026-10-23T15:30:00.000000Z · শ্রীমঙ্গলের সময় ডেস্ক
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ১নং মেন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাকিমের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, অনিয়ম-দুর্নীতি, উন্নয়ন বরাদ্দে জালিয়াতি এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির নানা অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে তিনি অনেকটা ‘রামরাজত্ব’ কায়েম করেছেন। বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণ আত্মসাৎ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের ঘটনায় অতীতেও তিনি স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত হন। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের এই নেতা কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ‘কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে’ এত বিতর্কিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন?বিরোধী নেতাকর্মীদের দমন ও হয়রানির অভিযোগনাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতা জানান, আবু হাকিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চালিয়েছেন।তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যানের বিরোধিতা করা বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজনকে বিভিন্ন মামলায় ফেলে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের দাবি, অন্তত শতাধিক পরিবার তার প্রভাব ও মামলার হয়রানির শিকার হয়েছে।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে আবু হাকিম নিজের প্রভাব ও আধিপত্য অটুট রেখেছেন বলেও তারা অভিযোগ তোলেন।ব্যক্তিগত বিরোধেও মামলার অস্ত্রইউনিয়নের বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দা জাবেদ মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান আবু হাকিমের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ইউনিয়নে কারও নেই।”তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সম্প্রতি চেয়ারম্যান তার স্ত্রীকে বাদী বানিয়ে জাবেদ মিয়ার ভাই, ভাতিজা ও ভাতিজির বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করিয়েছেন। জাবেদ মিয়ার প্রশ্ন, “যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তিনি এখনও কীভাবে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন—এটি দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”যা বলছে পুলিশ প্রশাসনতবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাকিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। (তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে)।এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঠোফোনে জানান, কাল্পনিক বা মিথ্যা মামলার বিষয়ে তদন্তে সত্যতা না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হবে।আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাকিমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খালিয়াজুরী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে কোনো মামলা রুজু করছে না। তবে যেসব মামলায় সুনির্দিষ্ট বাদী রয়েছে, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।