শ্রীমঙ্গলের সময়

নারী চিকিৎসকের কাছে কম ব্যথা অনুভব করেন পুরুষ রোগী, বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল · 2026-10-28T12:07:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে পুরুষেরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভব করেন। অস্ত্রোপচারের পর ২৪৫ জন রোগীর ওপর চালানো জরিপেও পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা দেখা গেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, পার্থক্যটি সামগ্রিকভাবে খুব বেশি নয় এবং এর কারণ নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ব্যথার অনুভূতি কি কেবল শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে, নাকি সামনে থাকা ব্যক্তির পরিচয়ও এতে প্রভাব ফেলে? সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে পুরুষেরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভব করেন। শুধু পরীক্ষাগারেই নয়, অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের ওপর চালানো জরিপেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। তবে কেন এমন হয়, তা এখনো নিশ্চিত নন গবেষকেরা।

গবেষণার প্রথম ধাপে সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের পায়ের পাতার ওপরের অংশে লেজারের সংক্ষিপ্ত স্পন্দন প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যথার সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুতন্তুর সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। পরীক্ষায় দেখা যায়, পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের শরীরে নারী পরীক্ষক ব্যথার উদ্দীপনা প্রয়োগ করলে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে তুলনামূলক বেশি তীব্র উদ্দীপনার প্রয়োজন হয়।

পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে একটি ছোট যন্ত্র দেওয়া হয়। যন্ত্রটির বোতাম চাপলে মৃদু বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি হতো। ব্যথা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের বোতাম ছেড়ে দিতে বলা হয়। একবার নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে এবং অন্যবার পুরুষ পরীক্ষকের উপস্থিতিতে পরীক্ষা চালানো হয়।

এ পরীক্ষাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নারী ও পুরুষ উভয় অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে বেশি তীব্র উদ্দীপনা প্রয়োজন হয়েছিল।

পরীক্ষাগারের ফলাফল বাস্তব চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও দেখা যায় কি না, তা জানতে সুইডেনের স্কোনে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন এমন রোগীদের নিয়ে আরেকটি গবেষণা করা হয়। হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডের মোট ২৪৫ জন রোগীর ওপর জরিপ চালানো হয়। অস্ত্রোপচারের অল্প সময় পর একজন নারী ও একজন পুরুষ গবেষক রোগীদের ব্যথার বিষয়ে জানতে চান।

জরিপে দেখা যায়, পুরুষ রোগীরা নারী গবেষকের কাছে ব্যথার কথা জানালে তাঁদের ব্যথার অনুভূতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে নারী রোগীদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ গবেষকের উপস্থিতিতে একই ধরনের পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে ব্যথার অনুভূতিতে পার্থক্যটি খুব বেশি ছিল না। তবে কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব থাকতে পারে। বিশেষ করে, ব্যথা এত বেশি হলে যে রোগী নিজে থেকেই ব্যথানাশক ওষুধ চাইতে শুরু করেন, তখন এ পার্থক্য বেশি লক্ষ করা যায়।

নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে কেন ব্যথার অনুভূতি বদলে যায়, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। আগের কিছু গবেষণায় নারীদের সহমর্মিতা প্রকাশের ধরন, হাসি ও সরাসরি চোখের দিকে তাকানোর মতো আচরণের কথা উঠে এসেছে। তবে বর্তমান গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের পেছনে এসব বিষয় ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ও অবেদনবিদ্যা এবং নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের পরামর্শক আনা সেলগ্রেন ইংস্কভ জানান, নারী ও পুরুষ উভয় অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই নারী পরীক্ষকের উপস্থিতিতে একই মাত্রার ব্যথা অনুভব করাতে বেশি তীব্র উদ্দীপনা প্রয়োজন হয়েছে।

গবেষণাটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এবং মালমোর এসইউএস হাসপাতালের অবেদনবিদ্যা ও নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক ইয়োনাস ওকেসন বলেন, সুস্থ ব্যক্তিদের ওপর পরীক্ষামূলক গবেষণা এবং অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের নিয়ে চিকিৎসাভিত্তিক গবেষণা—উভয় ক্ষেত্রেই এমন ফলাফলের পক্ষে এটি প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ।

গবেষকদের মতে, রোগীর ব্যথা মূল্যায়নের সময় এ ধরনের পার্থক্য বিবেচনায় রাখলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ‘ব্যথার অনুভূতি: ব্যথা সৃষ্টি, মূল্যায়ন ও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’। গবেষণার ফলাফল ব্যথার অনুভূতি ও তা প্রকাশের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তবে এই ফলাফল থেকে সব পুরুষ রোগী নারী চিকিৎসক বা গবেষকের কাছে কম ব্যথা অনুভব করেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত