শ্রীমঙ্গলের সময়

অজান্তেই হাড়ের ক্ষতি করছেন যেসব অভ্যাসে

লাইফস্টাইল · 2026-10-30T03:15:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ব্যায়াম না করা, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির ঘাটতি হাড়ের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।

হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘদিন নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বাইরে থেকে নিজেকে সুস্থ মনে হলেও ধীরে ধীরে কমতে পারে হাড়ের ঘনত্ব। একপর্যায়ে সামান্য আঘাত বা পড়ে যাওয়ার কারণেও ভেঙে যেতে পারে হাড়। অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি তৈরি হয়। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অস্টিওপরোসিসকে অনেক সময় ‘নীরব রোগ’ বলা হয়। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত এর উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। হাড় ভাঙার ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়লেও জীবনযাত্রার ধরনও হাড়ের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না খাওয়া: হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। অন্যদিকে ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ, ডিমসহ পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা: দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটানো এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা হাড় ও পেশির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে না থেকে বিরতি নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা ভালো।

শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এড়িয়ে চলা: হাড়ের পাশাপাশি পেশির শক্তিও শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির সক্ষমতা কমে যেতে পারে। নিয়মিত উপযোগী শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির শক্তি বজায় রাখতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ধূমপান: দীর্ঘদিন ধূমপানের সঙ্গে হাড়ের দুর্বলতা এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। তাই হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ধূমপান থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান: নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

অতিরিক্ত সীমিত খাদ্যাভ্যাস: দ্রুত ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘদিন খুব কম খাবার খাওয়া বা একাধিক খাদ্যগোষ্ঠী বাদ দেওয়ার ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এসব পুষ্টি উপাদান হাড় ও পেশির সুস্থতার জন্য প্রয়োজন। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। বয়স বৃদ্ধি, পরিবারের কারও এ রোগের ইতিহাস, আগে হাড় ভেঙে যাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নিশ্চিত করা, নিয়মিত হাঁটাচলা ও উপযোগী ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করা জরুরি। অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা সীমিত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা না জেনে নিজে থেকে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডির সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত