শ্রীমঙ্গলের সময়

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরছে শনিবার

সারাদেশ · 2026-10-30T06:44:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

দীর্ঘ আড়াই মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরছে। তাঁদের মধ্যে নওগাঁ জেলার পাঁচজন এবং নাটোরের দুজন রয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের পর তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ২৯ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে শনিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দেশে ফিরতে যাওয়া সাতজনের মধ্যে নওগাঁ জেলার পাঁচজন হলেন—নওগাঁ পৌরসভার পার নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।

অন্যদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নিহত দুজন হলেন মোয়াজ্জেম শামীম ও সাব্বির হোসেন।

নিহতদের মধ্যে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ছিলেন মোট ১২ জন। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় কয়েকজনের মরদেহ দেশে ফেরার পর বাকি স্বজনদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। পরিচয় শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠাও বাড়তে থাকে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বয়ে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার বিকেলে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে। মরদেহ পরিবহনের জন্য সরকারিভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ইউএনওর তথ্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরাসরি নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

দীর্ঘ আড়াই মাস পর স্বজনদের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য শনিবারের দিনটি হবে অত্যন্ত বেদনাবিধুর। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানো ও স্বপ্ন পূরণের আশায় যাঁরা হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাঁদের ফিরতে হচ্ছে কফিনবন্দি হয়ে।

জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের পরিবারের অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে এনেছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও প্রিয়জন হারানোর শোক থেকে যাবে আজীবন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত