ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না নেতানিয়াহুর জোট
বিশ্ব · 2026-10-30T06:25:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত আসন বণ্টনের ফল প্রকাশ করে। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির অন্যতম বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি এবং বি’ইয়াচাদ পেয়েছে ১২টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। এ ছাড়া দ্য ডেমোক্র্যাটস ও রা’আম পেয়েছে আটটি করে আসন।
অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে ইসরায়েল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে সাতটি করে আসন। শাস এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ছয়টি করে আসন।
নির্বাচনে ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত দ্য চ্যারেডি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
ফলাফলে দেখা গেছে, বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর সমর্থক দলগুলোর আসন ছিল ৬৮টি। নতুন নির্বাচনে তা কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দলগুলোর ১৯টি আসন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বিরোধী জোটের সব দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে সহযোগিতায় আগ্রহী নয়।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটসংক্রান্ত অভিযোগ ও ত্রুটি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সরকার গঠনের জন্য তাঁদের সুপারিশ শুনবেন।
ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের জন্য একজন আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দেবেন। এরপর তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে হবে।
নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবির—কোনোটিই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোর সমর্থন, সম্ভাব্য জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ওপরই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন।