ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন? জিডি থেকে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত করণীয়
জাতীয় · 2026-11-04T05:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বাংলাদেশে প্রথমে নিকটস্থ থানায় জিডি করে আগের পাসপোর্টের তথ্যসহ সরকারি পোর্টালে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। বিদেশে হারালে স্থানীয় পুলিশের রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই ও কাগজপত্রের ওপর নতুন পাসপোর্ট পেতে সময় নির্ভর করে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ই-পাসপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভ্রমণ নথি। বিদেশে যাতায়াত, ভিসা আবেদন, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন কাজে পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়। তাই পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বিশেষ করে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা অবস্থায় সেটি হারিয়ে গেলে কীভাবে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে, থানায় জিডি করতে হবে কি না, অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে—এসব বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমেই হারানোর ঘটনাটি নিকটস্থ থানায় জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হয়। এরপর বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে আগের পাসপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীর পরিচয়, হারানোর বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর নির্ধারিত নিয়মে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তবে পাসপোর্ট হারানো এবং পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া এক বিষয় নয়। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের তথ্য ও হারানোর ঘটনা আবেদনপত্রে সঠিকভাবে উল্লেখ করা জরুরি। আবার বিদেশে পাসপোর্ট হারালে সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ও বিদেশে ই-পাসপোর্ট হারালে করণীয়, জিডি, অনলাইন আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সতর্কতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথমে কী করবেন?
ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে পাসপোর্টটি সত্যিই হারিয়েছে, নাকি কোথাও রেখে এসেছেন। বাসা, অফিস, ভ্রমণের ব্যাগ, যানবাহন কিংবা সর্বশেষ যেসব স্থানে গিয়েছেন, সেগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখুন।
পাসপোর্টটি চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে বা কোথাও খুঁজে না পেলে দেরি না করে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। পাসপোর্ট হারানো বা চুরির বিষয়টি জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করুন। জিডিতে পাসপোর্টের নম্বর জানা থাকলে সেটি উল্লেখ করুন। পাশাপাশি পাসপোর্টধারীর নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, হারানোর সম্ভাব্য স্থান ও সময় এবং ঘটনার বিবরণ যতটা সম্ভব সঠিকভাবে লিখতে হবে।
পাসপোর্ট হারানোর পর দ্রুত পুলিশকে জানানোর উদ্দেশ্য শুধু নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা নয়; হারানো নথিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ পাসপোর্টটি ব্যবহার করে প্রতারণা বা অননুমোদিত ভ্রমণের চেষ্টা করতে পারে। তাই ঘটনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
পাসপোর্ট হারালে কি থানায় জিডি করতে হয়?
বাংলাদেশের ভেতরে ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে পুনরায় পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য সাধারণত থানায় করা জিডির কপি প্রয়োজন হয়। পাসপোর্ট চুরি হয়ে থাকলে জিডিতে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। হারানোর ঘটনা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে পারে।
জিডি করার সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখা ভালো। হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি, স্ক্যান কপি, পুরোনো আবেদনপত্র, ডেলিভারি স্লিপ কিংবা পাসপোর্ট নম্বরের তথ্য থাকলে সেগুলোও সহায়ক হতে পারে।
পাসপোর্টের ফটোকপি না থাকলেও থানায় গিয়ে ঘটনা জানানো যায়। পাসপোর্ট নম্বর মনে না থাকলে অনুমান করে কোনো নম্বর লেখা উচিত নয়। বরং নিজের পরিচয় ও হারানোর বিবরণ দিয়ে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিন। প্রয়োজনে আগের পাসপোর্টের তথ্য সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহের বিষয়ে জানতে পারেন।
জিডির কপি সংগ্রহ করার পর সেটি ভালোভাবে সংরক্ষণ করুন। অনলাইন আবেদন এবং পাসপোর্ট অফিসে প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের সময় এটি লাগতে পারে। মূল কপি ও কয়েকটি ফটোকপি সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক।
ই-পাসপোর্ট হারালে নতুন পাসপোর্টের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নতুন করে সাধারণ প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদন না করে আগের পাসপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনের কারণ হিসেবে হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের বিষয়টি সঠিকভাবে নির্বাচন করতে হবে।
প্রথমে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
https://www.epassport.gov.bd/
এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে লগইন করে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করুন। প্রয়োজন হলে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণের পাশাপাশি আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে। পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার কারণে রি-ইস্যু আবেদন করছেন—এ বিষয়টি নির্ধারিত অংশে উল্লেখ করতে হবে।
পুরোনো পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং পাসপোর্টের ধরন জানা থাকলে সঠিকভাবে পূরণ করুন। কোনো তথ্য জানা না থাকলে অনুমান করে লিখবেন না। সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারেন।
আবেদনপত্রে নিজের নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে। আগের পাসপোর্টে থাকা তথ্যের সঙ্গে কোনো অমিল থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নেওয়া ভালো।
হারানো ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যুর জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
হারানো পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে সাধারণত পরিচয় ও আগের পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের জন্য কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। আবেদনকারীর বয়স, পরিচয়পত্র এবং আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ভিন্ন হতে পারে।
সাধারণভাবে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো:
অনলাইনে পূরণ করা পাসপোর্ট আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
থানায় করা পাসপোর্ট হারানো বা চুরির জিডির কপি।
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ।
হারানো পাসপোর্টের ফটোকপি বা স্ক্যান কপি, যদি থাকে।
আগের পাসপোর্টের নম্বর, ইস্যুর তারিখ ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য।
আগের পাসপোর্টের ডেলিভারি স্লিপ বা আবেদনসংক্রান্ত কাগজ, যদি থাকে।
নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণ বা পেমেন্ট রসিদ।
আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিসের চাওয়া অতিরিক্ত কাগজপত্র।
এই তালিকাটি প্রস্তুতির সহায়ক তালিকা। সব আবেদনকারীর জন্য প্রতিটি কাগজ বাধ্যতামূলক—এমন নয়। বয়স, পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা মিলিয়ে নিন।
হারানো পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করুন। এরপর নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে।
পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার সময় জিডির কপি এবং পরিচয়সংক্রান্ত নথি দেখাতে বা জমা দিতে হতে পারে। হারানো পাসপোর্টের আগের তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুরোনো পাসপোর্টের কপি বা নম্বর চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো।
আবেদন জমা দেওয়ার পর অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ছবি, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদনটি রি-ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক নেওয়া হতে পারে।
আবেদন গ্রহণের পর দেওয়া রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপ সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টের অবস্থা জানতে বা সংগ্রহ করতে এই তথ্য প্রয়োজন হতে পারে।
হারানো পাসপোর্টের জন্য কত টাকা ফি দিতে হয়?
ই-পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ফি পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ, ডেলিভারির ধরন এবং প্রযোজ্য সরকারি ফি কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো ফি বা বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য কি না, সেটিও আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও কার্যকর নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই পুরোনো কোনো ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ফি দেখে টাকা জমা দেওয়া ঠিক নয়। আবেদন করার সময় সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রদর্শিত ফি এবং পেমেন্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ফি পরিশোধের পর রসিদ বা লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট করানোর প্রলোভনে পড়বেন না। পাসপোর্টের ফি ও আবেদনসংক্রান্ত লেনদেন অনুমোদিত পদ্ধতিতেই সম্পন্ন করা উচিত।
হারানো পাসপোর্টের নতুন কপি পেতে কতদিন লাগে?
ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে রি-ইস্যুর আবেদন জমা দেওয়ার পর কতদিনে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে, তা নির্দিষ্ট করে সবার জন্য বলা যায় না। কারণ আবেদন যাচাই, জিডির তথ্য পরীক্ষা, আগের পাসপোর্টের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা, প্রয়োজনীয় পুলিশি যাচাই এবং পাসপোর্ট মুদ্রণের মতো বিষয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো যাচাই বাকি থাকলে বা অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে। তাই জরুরি ভ্রমণ বা ভিসা আবেদনের পরিকল্পনা থাকলে যত দ্রুত সম্ভব হারানোর ঘটনা জানিয়ে রি-ইস্যুর আবেদন করা উচিত।
আবেদনের সময় যে ডেলিভারি ক্যাটাগরি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি পাসপোর্ট অফিসের প্রক্রিয়া ও যাচাইয়ের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে যাচাইয়ের কারণে নির্ধারিত সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।
বিদেশে ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?
বিদেশে অবস্থানকালে বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাসপোর্ট ছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, হোটেলে পরিচয় নিশ্চিত করা কিংবা দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।
প্রথমে যে দেশে পাসপোর্ট হারিয়েছে, সেই দেশের স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। পাসপোর্ট চুরি হলে সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে পুলিশ রিপোর্ট বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন। হারানোর স্থান, সময় এবং ঘটনার বিবরণ যথাসম্ভব সঠিকভাবে দিতে হবে।
এরপর নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশন পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ধরনের পুলিশ রিপোর্ট, পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের কপি বা অন্যান্য কাগজপত্র লাগবে তা জানাবে।
বিদেশে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নতুন ই-পাসপোর্টের রি-ইস্যু অথবা জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পারমিট বা প্রযোজ্য ভ্রমণ নথির বিষয়ে মিশনের নির্দেশনা নিতে হবে। সব পরিস্থিতিতে একই ধরনের নথি বা একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। তাই সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশনের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের যোগাযোগের ঠিকানা ও ফোন নম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যায়।
https://mofa.gov.bd/
হারানো পাসপোর্ট পরে খুঁজে পেলে কী করবেন?
অনেক সময় পাসপোর্ট হারানোর পর জিডি করা ও নতুন পাসপোর্টের আবেদন করার আগেই পুরোনো পাসপোর্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। আবার কখনো নতুন পাসপোর্টের আবেদন জমা দেওয়ার পর পুরোনোটি পাওয়া যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্তে পুরোনো পাসপোর্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। পাসপোর্টটি হারানো হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, সেটি বাতিল বা অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
জিডি করার পর পাসপোর্ট পাওয়া গেলে থানায় বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে বিষয়টি জানিয়ে পরবর্তী করণীয় জেনে নিন। নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে পুরোনো পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণের চেষ্টা করবেন না। এতে ইমিগ্রেশন বা ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পাসপোর্ট হারানোর পর যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
পাসপোর্টে ব্যক্তিগত পরিচয়, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, ছবি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। তাই হারানোর পর এসব তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পাসপোর্টের স্ক্যান কপি বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা ব্যক্তিগত নথি অপ্রয়োজনে পাঠাবেন না। অনলাইনে আবেদন করার সময় ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন।
কোনো ব্যক্তি যদি দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত টাকা চান, তাহলে সতর্ক থাকুন। পাসপোর্টের আবেদন, ফি ও ডেলিভারি সংক্রান্ত কাজ সরকারি পোর্টাল এবং অনুমোদিত পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমে সম্পন্ন করুন।
পাসপোর্ট হারানোর পর নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত জরুরি ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা বিদেশে থাকলে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগেই করণীয় জেনে নিন।
ই-পাসপোর্ট হারালে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট হারালে প্রথমে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। এরপর রি-ইস্যুর আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন ও পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন:
ই-পাসপোর্ট পোর্টাল: https://www.epassport.gov.bd/
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর: https://dip.gov.bd/
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: https://mofa.gov.bd/
বিদেশে পাসপোর্ট হারালে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। মিশনের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, ই-পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে দ্রুত থানায় জিডি করা, আগের পাসপোর্টের তথ্য সংগ্রহ করা এবং সরকারি নিয়মে রি-ইস্যুর আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে হারালে স্থানীয় পুলিশের রিপোর্ট সংগ্রহ করে বাংলাদেশ মিশনের নির্দেশনা নিতে হবে। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখলে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং হারানো পাসপোর্টের সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতেও সহায়তা করে।