সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে বৃদ্ধ পিতার ঠাঁই হলো গাছতলায়!
সারাদেশ · 2026-11-04T12:50:00.000000Z · মোঃ সাইফুল ইসলাম
জীবনের সব সুখ, শ্রম ও উপার্জন বিসর্জন দিয়ে তিলে তিলে ছয় সন্তানকে মানুষ করেছিলেন ৯৫ বছরের বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানরাই তার একমাত্র ঠিকানা কেড়ে নিয়েছে। সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর এখন তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে—যেখানে কাটছে এই অসহায় বৃদ্ধের নিদারুণ দিনকাল।মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে। ভুক্তভোগী হাজী শামসুল হক মোল্লা ওই গ্রামের মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী শামসুল হকের পরিবারে দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে, চার মেয়ের মধ্যে বড় তিনজন—মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগম বিবাহিত। তবে ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।জানা গেছে, গত কয়েক বছর আগে নিজের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে হজ পালন করেছিলেন হাজী শামসুল হক। পরবর্তীতে অবশিষ্ট জমিও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীহীন এই বৃদ্ধ বিপত্নীক হওয়ার পর থেকেই তার কোনো সন্তানই আর তার খোঁজখবর রাখছিলেন না।সর্বশেষ গত কয়েক দিন ধরে তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তবে মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে গেলে শুরু হয় বিপত্তি। অভিযোগ রয়েছে, দুই ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধ পিতাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে ফেলে রাখেন।সন্তানদের এমন অমানবিক আচরণ ও নিষ্ঠুরতার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।এ বিষয়ে বড় মেয়ে মায়া বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার স্বামী অসুস্থ। তাছাড়া আমার সংসারে প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলীও থাকে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত এই চাপ নেওয়ার মতো সামর্থ্য বা জায়গা আমার নেই।"বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের এই নির্মম অবহেলা ও অমানবিকতার বিষয়টি এলাকায় গভীর শোক ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই অসহায় বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানো এবং সন্তানদের এমন অমানবিক আচরণের সুষ্ঠু প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।