পাঁচ শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছোট সোনামসজিদ
সারাদেশ · 2026-11-03T14:21:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
প্রায় ৫০০ বছরের ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ। শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা। মধ্যযুগের বাংলার মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্যঐতিহ্য বহনকারী মসজিদটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়। মসজিদের শিলালিপি অনুসারে, ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী নামের এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেন। একসময় মসজিদের গম্বুজগুলো সোনালি রঙের আস্তরণে আবৃত ছিল। এ কারণে স্থাপনাটি ‘সোনা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। একই নামে আরেকটি মসজিদ থাকায় এটি ছোট সোনামসজিদ হিসেবে পরিচিত।
ইট, পাথর ও পোড়ামাটির ফলকে তৈরি মসজিদটির স্থাপত্যে রয়েছে অসাধারণ কারুকাজ। এর গায়ে খোদাই করা নকশা ও অলংকরণ মধ্যযুগের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। মসজিদটিতে মোট ১৫টি গম্বুজ রয়েছে। সময়ের পরিবর্তন ও নানা ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যেও স্থাপনাটি এখনো তার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য ধরে রেখেছে।
ছোট সোনামসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শায়িত আছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং শহীদ মেজর নাজমুল হক টুলু। তাঁদের কবর জিয়ারত করতে প্রতিবছর বহু মানুষ এখানে আসেন। ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পান দর্শনার্থীরা।
ছোট সোনামসজিদ শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের পর্যটকেরা এখানে ঘুরতে আসেন। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্থাপনাটির যথাযথ সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী বলেন, ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পরিবেশ যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা থেকে মুক্ত রাখা জরুরি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, স্থানীয় সচেতন সমাজ ও নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে ছোট সোনামসজিদের ঐতিহাসিক মর্যাদা, সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।