শ্রীমঙ্গলের সময়

ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বিপদ! ৫ নভেম্বরের আগে যে কাজটি করতে হবে

জাতীয় · 2026-10-28T00:35:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদে ১৫০ জন সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা যাবে এবং ৫ নভেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সংশোধনের কার্যক্রম জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, নামের তথ্য সংশোধন এবং ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক নাগরিকদের এখনই নিজেদের ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা জরুরি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মো. আব্দুল হালিম খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলা ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভোটার তালিকার খসড়া নিয়ে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ১৫০ জন কর্মকর্তাকে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে যাঁদের জন্ম এবং যাঁরা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এ তালিকা চূড়ান্ত করার আগে খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ পড়া নাম নিয়ে আপত্তি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে। নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফরম-৬, আপত্তির জন্য ফরম-৭ এবং সংশোধনের জন্য ফরম-৮ ব্যবহার করা হয়। আবেদনগুলো যাচাই করে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ নিষ্পত্তি করবেন।

অন্যদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা যাবে এবং এসব আবেদন ৫ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।

ভোটারদের জন্য এ সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা জরুরি। কেউ নতুন ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েও নিবন্ধন সম্পন্ন না করে থাকলে, কিংবা নিজের নাম, ঠিকানা বা ভোটার এলাকার তথ্য নিয়ে সমস্যা থাকলে তাঁকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তবে আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।

ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না, ঠিকানা সঠিক আছে কি না কিংবা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করার সময় বর্তমান ঠিকানা এবং প্রযোজ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি-সংক্রান্ত কাগজ বা নম্বর থাকলে তা সংরক্ষণ করাও ভালো।

এদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সময়সূচি জানিয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭ মে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার তফসিল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যোগ্য ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভুল বা আপত্তির বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা। তাই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত