ইকোনমি ক্লাসের বিশ্বের সেরা ৫ এয়ারলাইন
লাইফস্টাইল · 2026-11-03T15:07:19.000000Z · মেইল ডেস্ক
বিমানে দীর্ঘ যাত্রা মানেই কি অস্বস্তিকর আসন, খাবারের মান নিয়ে অসন্তুষ্টি আর পা ছড়িয়ে বসার জায়গার অভাব? ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করলেও অভিজ্ঞতা যে আরামদায়ক হতে পারে, তার প্রমাণ দিচ্ছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এয়ারলাইন।
আসনের বাড়তি প্রশস্ততা, পায়ের জন্য বেশি জায়গা, উন্নত খাবার, বিনোদনব্যবস্থা থেকে শুরু করে কর্মীদের আন্তরিক সেবা—ছোট ছোট এসব সুবিধাই দীর্ঘ যাত্রাকে করে তুলতে পারে স্বস্তিদায়ক। ২০২৬ সালের স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডসে ইকোনমি ক্লাসে বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন নির্বাচিত হয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস।
স্কাইট্র্যাক্সের বার্ষিক যাত্রী সন্তুষ্টি জরিপের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের সেবা থেকে শুরু করে উড়োজাহাজের ভেতরের অভিজ্ঞতা—বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের মতামত নেওয়া হয় এতে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক, তৃতীয় কাতার এয়ারওয়েজ, চতুর্থ ইভিএ এয়ার এবং পঞ্চম স্থানে এএনএ অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ইকোনমি ক্লাসে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের অন্যতম সুবিধা আসনের বাড়তি প্রশস্ততা। তাদের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজে প্রতি সারিতে নয়টি আসন থাকে। একই মডেলের অনেক উড়োজাহাজে অন্য এয়ারলাইনগুলো ১০টি আসন বসায়।
ফলে যাত্রীরা কাঁধ ও কোমরের দিকে কিছুটা বেশি জায়গা পান। এ ছাড়া রয়েছে পায়ের জন্য বার, আলাদা কাপ হোল্ডার, সমন্বয়যোগ্য হেডরেস্ট এবং ক্রিসওয়ার্ল্ড বিনোদনব্যবস্থা। ইকোনমি ক্লাসের খাবারের মানের দিক থেকেও শীর্ষে রয়েছে এয়ারলাইনটি।
ক্যাথে প্যাসিফিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভালো সেবার জন্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হংকংভিত্তিক এয়ারলাইন ক্যাথে প্যাসিফিক। ইকোনমি আসন, খাবার ও উড়োজাহাজের ভেতরের বিনোদনব্যবস্থায় ভালো অবস্থান রয়েছে তাদের।
২০২৬ সালে বিশ্বের সেরা কেবিন ক্রু সেবার স্বীকৃতিও পেয়েছে এয়ারলাইনটি। নতুন ও সংস্কার করা উড়োজাহাজে রয়েছে ৪কে স্ক্রিন, ব্লুটুথ অডিও এবং উন্নত স্টোরেজ সুবিধা।
কাতার এয়ারওয়েজ তালিকায় তৃতীয় হলেও ইকোনমি আসনের আলাদা মূল্যায়নে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। তবে যাত্রীদের জন্য উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা তাদের বড় সুবিধা। উড়োজাহাজের বিভিন্ন বহরে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে সুবিধাপ্রাপ্ত উড়োজাহাজে দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহার, ভিডিও কল ও অনলাইনে বিনোদন উপভোগ করা যায়।
ইভিএ এয়ার তাইওয়ানের এয়ারলাইন ইভিএ এয়ারের বিশেষত্ব আরামদায়ক আসন ও খাবার। সমন্বয়যোগ্য হেডরেস্ট, শরীরের সঙ্গে মানানসই আসনের নকশা এবং উন্নত কুশন দীর্ঘ যাত্রায় স্বস্তি দেয়। তাদের ইকোনমি মেনুতে তাইওয়ানিজসহ বিভিন্ন এশীয় খাবার থাকে। স্কাইট্র্যাক্সের ইকোনমি ক্যাটারিং মূল্যায়নে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা।
এএনএ অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা জাপানের বিমান সংস্থা এএনএর কিছু বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে আসনের সারিগুলোর মধ্যে দূরত্ব বা সিট পিচ সর্বোচ্চ ৩৪ ইঞ্চি। দীর্ঘ দূরত্বের অনেক ইকোনমি কেবিনে এই দূরত্ব থাকে ৩১ থেকে ৩২ ইঞ্চি। ফলে হাঁটুর জন্য বাড়তি জায়গা পাওয়া যায়।
কিছু উড়োজাহাজে রয়েছে ফুটরেস্ট, বড় বিনোদন স্ক্রিন, ইউএসবি-সি চার্জিং ও ব্লুটুথ অডিও সুবিধা। তবে উড়োজাহাজের ধরনভেদে আসনের দূরত্বে পার্থক্য রয়েছে। তাই টিকিট কাটার আগে আসন বিন্যাস দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমি ক্লাসে ভালো অভিজ্ঞতা কেবল আসনের প্রশস্ততার ওপর নির্ভর করে না। আরামদায়ক আসন, মনোযোগী সেবা, মানসম্মত খাবার ও ভালো বিনোদনব্যবস্থার সমন্বয়ই দীর্ঘ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করে তোলে। সূত্র: বিবিসি