গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চলবে চিরুনি অভিযান
জাতীয় · 2026-11-08T11:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ আশঙ্কায় জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতার আশঙ্কায় জেলাজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের অন্তত ১৪টি কৌশলগত ও নির্জন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর, ককটেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে কুমিল্লাজুড়ে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশও বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১৪টি স্থানকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর, ইলিয়টগঞ্জ, পুটিয়া, তীরচর ও গোমতা; চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ও কাঠেরপুল; বুড়িচং উপজেলার নিমসার ও কাবিলা; আদর্শ সদর উপজেলার সৈয়দপুর, আলেখারচর ও কোটবাড়ী; সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের আশঙ্কা, রাতের আঁধারে এসব এলাকার নির্জন স্থান ব্যবহার করে দূরপাল্লার যানবাহন লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের চেষ্টা হতে পারে। তবে এসব পরিকল্পনার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে মহাসড়ককেন্দ্রিক নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশ প্রায় ১০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক যোগাযোগপথ হওয়ায় এই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহাসড়কটিতে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ডিসেম্বর ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নাশকতার পরিকল্পনা করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, চিহ্নিত ১৪টি পয়েন্টসহ মহাসড়কের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় দিন-রাত বিশেষ টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই মহাসড়কে যানবাহন ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তিনি বাস্তবে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা পরিবার ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও ডিসেম্বরেই তাঁর দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন।