গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক দিনে নিহত ৫, আহত আরও কয়েকজন
বিশ্ব · 2026-11-03T08:18:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে চালানো হামলায় এক দিনে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিভিন্ন এলাকায় হামলায় চারজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া আগের দিন ইসরায়েলি হামলায় আহত এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এসব ঘটনায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন মধ্য গাজার আল-মুসাদ্দার গ্রামে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান আরও একজন। পৃথক এসব হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে উত্তর গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, ওই হামলায় হানি হামেদ কাহিল নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। হামলার পর এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার তিনটি পৃথক অভিযানে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে কোন এলাকায় কী ধরনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
অন্যদিকে আগের দিনের হামলায় আহত ইউসুফ আবু ইউনুস চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা। রোববার আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সোমবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছায়।
এর আগে রোববারের ওই হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ছাড়া সোমবার গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় একটি কমিউনিটি কিচেনের খাবার সরবরাহকারী মিনিবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন আরও তিনজন। খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৪৮ জন। আর গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৪ হাজার ৬০৯ জনে। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭২।
নতুন করে হামলার মধ্যে গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর জন্য তাঁবু ও অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পর্যাপ্ত আশ্রয় উপকরণ না থাকায় লাখ লাখ মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ সোমবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। গাজায় তাঁবু প্রবেশের অনুমতি এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর এ সফর বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা গত ৯ অক্টোবর জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ব্যবহৃত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুর প্রায় অর্ধেকই আর বসবাসের উপযোগী নেই। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এসব আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একদিকে নতুন করে প্রাণহানি, অন্যদিকে খাদ্য ও আশ্রয়সংকট—সব মিলিয়ে উপত্যকাটির সাধারণ মানুষের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
সূত্র: আল-জাজিরা,