নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি: ১৬ অক্টোবার ২০২৬ ১১:৩৪ এ.এম
ছবি: নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
আর কত গণমাধ্যমকর্মীর প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে যাবে? কোথায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, কোথায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা? সত্য প্রকাশের দায়ে কি এভাবেই জীবন দিতে হবে সংবাদকর্মীদের? নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এমনই প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টা। নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় তখন স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছিল। হঠাৎ পরপর কয়েকটি গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তেই থেমে যায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক কলমযোদ্ধার পথচলা। দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘আলিফ ফকির’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
যে মানুষটি সংবাদ সংগ্রহের তাগিদে ছুটে বেড়াতেন শহর থেকে সীমান্ত পর্যন্ত, যিনি সীমান্তে চোরাচালান, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য তুলে ধরতেন, সেই আলিফ ফকিরই এখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম। টেলিভিশনের পর্দা, পত্রিকার পাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর মৃত্যুর খবর। তাঁর নিথর দেহের খবর শোকাহত করেছে সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
আলিফ ফকিরের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি উঠেছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলা একজন সংবাদকর্মীকে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় চায়ের দোকানি রবিন রাংসা (মতান্তরে সাংমা) জানান, প্রতিদিনের মতোই তাঁর দোকানে বেচাকেনা চলছিল। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আলিফ ফকির নিজের মুঠোফোনটি তাঁর দোকানে রেখে যান। রাত ৮টার দিকে ফোনটি নিতে আবার দোকানে ফিরে আসেন তিনি।
এ সময় আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই অপরিচিত যুবক দোকানে এসে সিগারেট কেনে। আলিফ ফকির ফোনটি নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার পর ওই দুই যুবক তাঁর পিছু নেয়।
রবিনের ভাষ্য, “তারা পিছু নেওয়ার পরপরই আমি তিনটি গুলির বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভয়ে আর বাইরে বের হইনি, সোজা বাড়ির ভেতরে চলে যাই।”
স্থানীয়রা জানান, গুলির শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আলিফ ফকিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরই মধ্যে হামলাকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কয়েকটি গুলির খোসাও পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান তাঁরা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ আলিফ ফকিরকে দ্রুত দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়।
অপরাধের তথ্য প্রকাশ করতেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। পেশাগত ও ব্যক্তিগত কারণে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ‘রূপসী বাংলা’ আইপি টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে তাঁর একটি ফেসবুক পেজ ছিল।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই পেজে তিনি সীমান্ত চোরাচালান, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ও তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতেন। এসব তথ্য প্রকাশের কারণে তিনি ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলেও মনে করছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে এর আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ ফকির। এসব ঘটনায় তিনি আহতও হয়েছিলেন। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সংবাদ সংগ্রহ ও অপরাধের তথ্য প্রকাশের কাজ চালিয়ে যান।
তাঁর আগের হামলার ঘটনা এবং পেশাগত শত্রুতার বিষয়গুলো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।
স্বামীর মৃত্যুর খবরে দিশেহারা স্ত্রী
ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন আলিফ ফকিরের স্ত্রী আনন্দিতা সরকার। হঠাৎ স্বামীকে গুলি করার খবর পেয়ে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনন্দিতা সরকার বলেন, “খবর পেয়েই আমি পাগলের মতো ছুটে যাই সেখানে। গিয়ে দেখি আমার স্বামী মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”
স্থানীয়দের সহায়তায় স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। আকস্মিক এ মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তানসহ পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছে পুলিশ
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে।
সাংবাদিক হত্যার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. তরিকুল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
একজন গণমাধ্যমকর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুর্গাপুরসহ পুরো নেত্রকোনা জেলায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরা, অনিয়ম ও অপরাধের চিত্র প্রকাশ করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সংবাদকর্মীদের জীবন দিতে হয়, তবে তা শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, মুক্ত সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আলিফ ফকিরের মৃত্যু আবারও সামনে এনেছে সেই প্রশ্ন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরার অপরাধে আর কত সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হবে? সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের জীবন যদি নিরাপদ না থাকে, তবে স্বাধীন গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা কোথায়?
আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে। আর কোনো সংবাদকর্মী যেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন নির্মম পরিণতির শিকার না হন, সে জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
প্রয়াত সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
চাটমোহরে সন্ধানী যুব সমিতির ‘আওয়ামী লীগপন্থী’ কমিটি বাতিল ও অনিয়ম তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন
শারদীয় দুর্গোৎসবে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদার
মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের রেহাই নেই: বীরগঞ্জে কঠোর হুঁশিয়ারি এমপি মনজুরুল ইসলামের
পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: ড. মো. মাহমুদুল হক
ময়মনসিংহে বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালিত
টেকনাফে ২ কোটি টাকার ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক, ইজিবাইক জব্দ
শ্রীমঙ্গলে অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসানকে অস্ত্রধারী যুবকের পিছু ধাওয়া
বালিডাঙায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও মশারি বিতরণ
ধামইরহাটে পানি সম্পদ ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতামূলক গম্ভীরা অনুষ্ঠিত
রৌমারীতে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৫: দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন
ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে পৌর প্রশাসন ও বিএনপির যৌথ উদ্যোগ
ময়মনসিংহে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত
আল্লামা ইকবাল পিস অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হলেন শ্রীমঙ্গলের কৃতীসন্তান আবেদ আহমেদ।
পোরশায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালো জাতীয় আদিবাসী পরিষদ
ফরিদপুরে চাপাতি ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার ৫
কালিয়াকৈরে ফলের চড়া দাম: রোগীর পথ্য কিনতে গিয়ে চোখের পানি ঝরছে দরিদ্র পরিবারের
আখাউড়ায় মন্দির থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২: পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন স্থানীয়রা আখাউড়ায় মন্দির থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২: পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেন স্থানীয়রা
কাশিয়ানীতে রাস্তা ও ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগে ২০ পরিবার, বাঁশের সাঁকোই ভরসা
আর কত সাংবাদিকের প্রাণ ঝরলে নিরাপদ হবে গণমাধ্যম? আলিফ ফকির হত্যায় স্তব্ধ নেত্রকোনা
নেত্রকোণায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা
মৌলভীবাজার জেলা জমিয়তের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রশীদ আহমদ ও সম্পাদক তালেব উদ্দিন
উল্লাপাড়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যুবদল নেতা এ.বি. সিদ্দিক মিন্টুর বস্ত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ
হবিগঞ্জ কারাগারে আসামির রহস্যজনক মৃত্যু, শরীরে আঘাতের চিহ্নের দাবি স্বজনদের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরএমপির প্রস্তুতিমূলক সভা
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত
শিবপুরে পিতাকে হত্যার মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পুরস্কৃত হলেন এএসআই আরিফুর রহমান
শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রবাসী বিএনপি নেতা নূর বক্স আহমেদের মতবিনিময়
মৌলভীবাজারে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ডিডাফের নগদ অর্থ ও বস্ত্রসামগ্রী বিতরণ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গ্রামীণ নারী সম্মাননা পেলেন ১০ নারী