কোনো অভিযোগ নয়, নীরবেই ব্যালন ডি’অর থেকে দূরে হালান্ড
খেলা · 2026-10-30T10:32:16.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি ব্যালন ডি’অর। প্রতিবছর এই পুরস্কারকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা। বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত অর্জন এবং দলীয় সাফল্যের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয় বিজয়ীকে। তবে এই জমকালো আয়োজন থেকে নিজেকে দূরে রাখার কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ড। ২০২৩ সালে লিওনেল মেসির কাছে দ্বিতীয় হওয়ার পর থেকে ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁকে আর দেখা যায়নি। পরবর্তী তিন বছর মনোনয়ন পেলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর ছিল হালান্ডের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সময়। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়েছিলেন তিনি। ইংলিশ ক্লাবটির ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ডেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এফএ কাপ জয়ের পথে তাঁর গোলগুলো ছিল দলের সাফল্যের অন্যতম প্রধান শক্তি। সেই মৌসুমে ব্যালন ডি’অরের ভোটে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। তবে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি হারাতে হয় তাঁকে। এরপর থেকেই ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠান ঘিরে হালান্ডের অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন না নরওয়েজিয়ান এই তারকা। সেবারও মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি এবং ভোটের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু প্যারিসে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে সুইডেনে বন্ধুর ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন হালান্ড। তাঁর বন্ধু এরিক বোথেইমের দল মালমোর ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। ম্যাচটিতে মালমো ২-১ গোলে জয় পেয়ে লিগ শিরোপাও নিশ্চিত করে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বন্ধুর ম্যাচে উপস্থিত হওয়ার ঘটনা তখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
পরবর্তী বছরগুলোতেও একই ধরনের অনুপস্থিতি অব্যাহত থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে হালান্ড ২৬তম অবস্থানে ছিলেন। অন্যদিকে ২০২৬ সালের আসরেও মনোনয়ন পাওয়ার পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি তিনি। সেবার ভোটের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। অর্থাৎ, ২০২৩ সালে দ্বিতীয় হওয়ার পর পরবর্তী তিনটি আসরের কোনো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই তাঁকে দেখা যায়নি বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এই অনুপস্থিতির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ কিংবা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা তিনি প্রকাশ্যে জানাননি।
হালান্ড কেন ব্যালন ডি’অরের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম কৌতূহলের বিষয়। ২০২৩ সালে দ্বিতীয় হওয়ার পর তিনি কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ করেননি। পুরস্কার নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও করেননি। এমনকি আয়োজকদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে কোনো বক্তব্য দেওয়ার তথ্যও সামনে আসেনি। তাই তাঁর অনুপস্থিতিকে সরাসরি প্রতিবাদ কিংবা পুরস্কারের প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটি তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ, ব্যস্ততা কিংবা অন্য কোনো কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও তাঁর প্রকৃত অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়।
তবে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে অনুপস্থিত থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছেন হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন। শারীরিক শক্তি, গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য নিয়মিত হুমকি হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর ক্যারিয়ারের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ে তোলাও তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত তারকাদের একজন করে তুলেছে। ব্যক্তিগত পুরস্কারের পাশাপাশি দলের হয়ে সাফল্য অর্জনই তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সব মিলিয়ে, ২০২৩ সালে লিওনেল মেসির কাছে ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়ার পর থেকে টানা তিন বছর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আর্লিং হালান্ডকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কোনো প্রকাশ্য অভিযোগ, বিতর্ক কিংবা প্রতিবাদ ছাড়াই তাঁর এই অনুপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার অর্থ যে পুরস্কারটির প্রতি অসম্মান কিংবা অসন্তোষ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। শেষ পর্যন্ত হালান্ডের প্রকৃত অবস্থান জানতে হলে তাঁর নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে। মাঠে গোল করে আলোচনায় থাকা এই নরওয়েজিয়ান তারকা পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে উপস্থিত না থেকেও ফুটবল বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।