শ্রীমঙ্গলের সময়

আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের পর কী পড়বেন? দোয়া, দরুদ ও জিকিরের সঠিক নিয়ম জানুন

ধর্ম · 2026-10-30T10:51:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের পর আলাদা কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই; বরং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর পড়ার জন্য মহানবী (সা.)-এর শেখানো বিভিন্ন জিকির ও দোয়া রয়েছে। সালাম ফেরানোর পর তিনবার ইস্তিগফার, আল্লাহর প্রশংসা, ৩৩ বার করে তাসবিহ-তাহমিদ-তাকবির এবং আয়াতুল কুরসি পাঠের নিয়ম ও ফজিলত জেনে নিন। পাশাপাশি দরুদ শরিফ ও মোনাজাত কখন করবেন, সে বিষয়েও জানুন।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজ শেষে মুসল্লিদের তাসবিহ, দোয়া ও মোনাজাত করতে দেখা যায়। তবে অনেক সাধারণ মুসল্লি জানেন না, ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর প্রথমে কোন জিকির পড়তে হয়, কতবার তাসবিহ পড়তে হয়, কখন দরুদ শরিফ পড়বেন এবং কখন মোনাজাত করবেন। কেউ ইমামের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন, আবার কেউ নিজের মতো করে দোয়া করেন। কিন্তু মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ফরজ নামাজের পর কী কী আমল রয়েছে, তা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমেই একটি বিষয় জানা জরুরি, আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের পর পড়ার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট দোয়া বা দরুদ শরিফ সহিহ হাদিসে নির্ধারিত নেই। বরং পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর যেসব জিকির ও দোয়া পড়ার বর্ণনা রয়েছে, সেগুলো আসরের নামাজের পরও পড়া যায়। অর্থাৎ ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশা—প্রতিটি ফরজ নামাজের পর একইভাবে মাসনুন জিকিরগুলো আদায় করা যায়।

ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর প্রথমে তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়তে হয়। এর আরবি হলো أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ। বাংলা উচ্চারণ, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। অর্থ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এরপর পড়তে হয়, اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ। বাংলা উচ্চারণ, ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা যা-ল জালালি ওয়াল ইকরাম।’ অর্থ, হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। এ আমলটি সহিহ মুসলিমের ৫৯১ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

এরপর তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পড়া যায়। প্রথমে ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, এরপর ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়তে হয়। সবশেষে ১০০ পূর্ণ করতে পড়তে হয় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’ এভাবে ৯৯ বার জিকিরের পর এই বাক্যটি একবার পড়লে মোট ১০০ পূর্ণ হয়। সহিহ মুসলিমের ৫৯৭ নম্বর হাদিসে এই আমলের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

এই জিকিরগুলোর আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ জানা থাকলে মুসল্লিদের জন্য আমলগুলো করা সহজ হয়। ‘সুবহানাল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ পবিত্র ও মহান। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। ‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আর শেষের তাওহিদের বাক্যটির অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। এর প্রথম অংশ হলো, اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ। বাংলা উচ্চারণ, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ অর্থ, আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী। ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত সম্পর্কে সুনান আন-নাসাঈর আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা রয়েছে।

এবার প্রশ্ন হলো, দরুদ শরিফ কখন পড়বেন এবং কখন মোনাজাত করবেন? দরুদ শরিফ পাঠ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। তবে আসরের ফরজ নামাজের পর নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ পড়তেই হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। কেউ চাইলে মাসনুন জিকির শেষ করে দরুদ শরিফ পড়তে পারেন এবং এরপর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারেন। দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা উত্তম আদব।

মোনাজাতের ক্ষেত্রেও একটি বিষয় জানা দরকার। ফরজ নামাজের পর ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ইমাম ও মুসল্লিদের একসঙ্গে হাত তুলে সম্মিলিত মোনাজাত করাকে মহানবী (সা.)-এর নির্ধারিত বাধ্যতামূলক সুন্নাহ বলা ঠিক নয়। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই কেউ ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করলে কিংবা প্রচলিত পদ্ধতিতে ইমামের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নিলে এ বিষয়টি নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে ঝগড়া বা বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আসরের ফরজ নামাজ শেষে শুধু মোনাজাতের অপেক্ষায় না থেকে মহানবী (সা.)-এর শেখানো মাসনুন জিকিরগুলো শেখা এবং নিয়মিত আমল করা। আরবি উচ্চারণ শুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রতিটি জিকিরের অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কারণ নামাজের পর আল্লাহর প্রশংসা, ক্ষমা প্রার্থনা ও স্মরণ একজন মুসলমানের ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত