নেত্রকোনায় ১৯৯২ সালের কেনা জমি দখলের চেষ্টা, ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
সারাদেশ · 2026-10-30T16:34:00.000000Z · সিনিয়র রিপোর্টার
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেড়া ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ মেয়ের জামাতাকে হেয় করতে অপপ্রচারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের
নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা এলাকায় ১৯৯২ সালে কেনা জমি জবরদখলের চেষ্টা, বাড়ির বেড়া ভাঙচুর, ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিজের ও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন শিরিনা তালুকদার নামের এক নারী।চল্লিশা ইউনিয়নের নুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শিরিনা তালুকদার লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর স্বামী প্রয়াত আ. রাজ্জাকের মৃত্যুর পর থেকেই একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, তাঁর ছেলে মিয়া ও তাঁদের পরিবারের লোকজন ক্রয়কৃত ওই জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন।যেভাবে শুরু হয় বিরোধ:লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নারী জানান, ১৯৯২ সালে চল্লিশা মৌজার বিএআরএস ১৪৩ নম্বর দাগে তাঁরা ১৭ শতক জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিতে ভোগদখল করে আসলেও গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ করেই ওই জমি নিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেন অভিযুক্তরা।এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ অক্টোবর ভোরে অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। এ সময় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, জমিতে শান্তিতে টিকে থাকতে হলে এককালীন ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে; নতুবা পুরো জমি জবরদখল করে নেওয়া হবে।আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ:শিরিনা তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় তিনি প্রতিকার চেয়ে প্রথমে নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের এই নির্দেশকেও তোয়াক্কা না করে গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্তরা আবারও জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন।মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ:সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগী নারীর মেয়ের জামাতা ইকবাল হোসেন তালুকদার রাসেলকে ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করতে একটি মহল মিথ্যা মানববন্ধন ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।এ বিষয়ে ননদ আফরোজা খাতুন জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁরা জমিটি তাঁদের ভাইয়ের বলে জানেন এবং ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই এটি দখলের হীন চক্রান্ত চলছে। মেয়ের জামাতা ইকবাল হোসেন তালুকদার রাসেল বলেন, “শাশুড়ি আইনি জটিলতায় পড়ায় আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি। এ কারণে একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা তথ্য ও মানববন্ধন করাচ্ছে।”প্রশাসনের বক্তব্য:এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, অভিযোগটি পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তদের ওই জমিতে প্রবেশ না করার এবং জমিটি শিরিনা তালুকদারের দখলে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবার জমি দখলের অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে।