ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২১৩৭ জন
সারাদেশ · 2026-10-31T09:25:23.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮৪। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৫৪৭ জন।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট।
গত ৪ বছরের মধ্যে এবারই বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৭৩ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশে। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় ২ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বিভাগে ১৫ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১ হাজার ৫৪৫ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৭১২ জন।
মানবিক বিভাগে ৫০ হাজার ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ হাজার ৫৫২ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ২৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৫৪ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৮ জন।
পাসের হার ও জিপিএ-৫— ২ সূচকেই এবার ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন। তাদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন।
অন্যদিকে ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া শেরপুরে ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
এ বছর বোর্ডের অধীন ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টির সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ১০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৪ সালে ছিল ৪টি।
শূন্য পাসের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ময়মনসিংহের ৭টি, নেত্রকোনার ৬টি, জামালপুরের ৪টি এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা ৫টি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফল তুলে ধরেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে হিসাববিজ্ঞানে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। এসব বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সচেতন হওয়া এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, বিগত সরকারের সময় পড়াশোনা না করেও ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যারা পাস করেছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।