শ্রীমঙ্গলের সময়

দেলদুয়ারে সরকারি রাস্তা দখল করে গাছ লাগানোর অভিযোগ ভূমিদস্যু সেলিম রেজা বিরুদ্ধে

সারাদেশ · 2026-11-07T14:51:26.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার


টাঙ্গাইল দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের বর্নি গ্রামের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো সরকারি গ্রামীন রাস্তা জোরপূর্বক দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ভূমি দস্যু সেলিম রেজা।
ইতিমধ্যেই রাস্তার উপর গাছ রোপন করেছেন তিনি। এতে করে ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
জানা যায়, বর্ণি গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যাতায়াত করে আসছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি রক্ষায় এবং চলাচলের উপযোগী করতে বিগত ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল (সরকারি অনুদান) থেকে প্রকল্প নিয়ে মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভূমিদস্যু সেলিম রেজা রাস্তার পাশের জমি ক্রয় করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকে সেলিম রেজা রাস্তাটি তার নিজের দাবি করে রাস্তাটি কেটে ফেলা এবং খলের চেষ্টা চালায়।
গ্রামবাসী জানান, ২০২৬ সালে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে পুনরায় দ্বিতীয়বারের মতো মাটি ফেলে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়। এরপর সম্প্রতি সেলিম রেজা তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক রাস্তার মাঝখানে ক্ষতিকারক ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণ করে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই গাছগুলো তুলে ইউনিয়ন পরিষদ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপরও সেলিম রেজা বারবার সরকারি রাস্তা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
এলাকাবাসী দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি ভালোভাবে মেরামত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করা।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ২০২৪ সালে রাস্তাটি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে শিল্পী রাণী নামের এক নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সরেজমিন তদন্তের জন্য দেলদুয়ার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্তে গিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বাদী-বিবাদী উভয়ের সাথে কথা বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞ আদালত বাদী শিল্পী রানীর মামলাটি খারিজ করে দেন এবং জনস্বার্থে রাস্তাটি খোলা রাখার পক্ষে রায় প্রদান করেন।
রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, "যেহেতু রাস্তাটি প্রায় ২০ বছরের অধিক কালীন যাবৎ জনগণ চলাচল করছেন, তাই জনস্বার্থে এবং জনকল্যাণে রাস্তাটিতে পাবলিক ইজমেন্ট তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাস্তাটি পাকা করণের জন্য জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর (এলজিইডি) পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এরমধ্যে রাস্তাটির ট্রেন্ডার আইডি নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। যার আইডি নম্বর ৩৯৩২৩৫৩০৪।আদালতের এমন স্পষ্ট রায় ও সরকারি অনুদানে নির্মিত রাস্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বারবার দখলের অপচেষ্টায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তাই জনস্বার্থ রক্ষার্থে এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা যূথী জানান, রাস্তাটিতে পাবলিক ইজমেন্ট হয়ে গেছে। তাই রাস্তাটি কারো ব্যক্তিগত নামে থাকলেও সেটি আর ওই ব্যক্তি এককভাবে ব্যবহার বা বন্ধ করতে পারবে না। এই রাস্তাটি এখন জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য। তারপরও কেউ যদি দখল করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত